নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/চড়িলাম/বক্সনগর, আমবাসা, ২ আগস্ট৷৷ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অনুত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অনুত্তীর্ণ ছাত্র ছাত্রীরা আন্দোলনে শামিল হয়েছে৷ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়াতে শিক্ষামন্ত্রীকে ধিক্কার জানিয়ে বিশ্রামগঞ্জ দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা জাতীয় সড়ক পথ অবরোধ কেের৷ অবরোধের ফলে জাতীয় সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়৷ পরবর্তী সময়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধমুক্ত হয় জাতীয় সড়ক৷
বিশালগড়ের করইমুড়া সুকলের ছাত্রছাত্রীরা করইমুড়া বক্স নগর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষামন্ত্রীকে হায় হায় বলে স্লোগান দিতে থাকে৷ এই অবরোধকে ঘিরে প্রচুর সংখ্যক গাড়ি সহ এম্বুলেন্স আটকে থাকে, ছাড়া হয়নি কাউকে৷ তাদের দাবি তাদেরকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দিতে হবে৷
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীরা সোমবার আমবাসায় আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে৷ তাদের সকলকে পাস করিয়ে দিতে হবে৷অবরোধে বসে চন্দ্রপাড়া ক্লাস টুয়েলভ সুকল ও ভোলায় কলোনি হাই সুকল এর অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীরাও৷
রাজধানী আগরতলা শহর এলাকার শংকরাচার্য বিদ্যায়তন দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাএীরা সুকলে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ আন্দোলনে শামিল হয়৷ তাদের দাবি ছাএীদের পাশ করিয়ে দিতে হবে৷ অভিযোগ বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ছাএীকে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়৷আজ সুকলে আসার কথা বলেও সুকলের প্রধান শিক্ষিকা সুকেেল আসেন নি৷তাছাড়া বোর্ডের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাও ছাএী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন নি৷ তারা কোন ধরনের উওর না পেয়ে সুকলে তালা ঝুলিয়ে রােেখ৷
সোনামুড়াতে সুকলের ছাত্র-ছাত্রী ও বক্সনগর সুকলের মাধ্যমিকে অনুত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করেছে৷ সোনামুড়া টু বক্সনগর সড়ক অবরোধ করে দাওধারানী চৌমুহনীতে৷ এছাড়া বক্সনগর দাদ্বশ শ্রেণীর বিদ্যালয়ের ছাএ ছাএীরা সুকলের গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং টায়ার জালিয়ে বিক্ষোপ প্রদর্শন করছে৷তাদের দাবি তাদেরকে পাশ করিয়ে দিতে হবে৷
মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে সোমবার কমলপুর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন নোয়াগাঁও হাই স্কলে ছাএ ছাত্রী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তালা ঝুলিয়ে দেয়৷ শিক্ষক, শিক্ষিকারা তালা বন্দি অবস্থায় থাকেন দীর্ঘক্ষণ৷এবার মাধ্যমিক পরিক্ষায় নোয়াগাঁও হাই সুকলে পরীক্ষা দিয়েছে ২৬ জন৷ পাশ করে নয়(৯) জন৷ এবার মাধ্যমিক পরিক্ষা দেয় নি, অথচ এমন পরিক্ষার্থীর পাশ সার্টিফিকেট এসেছে৷ সেই ভাগ্যবান পরিক্ষার্থীর নাম নমিতা সরকার,৷ বাড়ি নোয়াগাঁও গ্রামে৷
এই অবস্থায় বিক্ষোভ করছে ছাএ ছাত্রী ও অভিভাবকরা৷ ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়৷ বিক্ষোভকারী ছাএ ছাত্রী ও অভিভাবকদের দাবি কোভিডের কারনে সুকল বন্ধ ছিল৷অনেকের মোবাইল ফোন নেই৷ অন লাইনে পড়াশোনা করতে পারে নি৷ ছাএ ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রি বোর্ডের পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছে৷ কিন্তু, তাদের বিজ্ঞান বিষয়ে ফেল এসেছে৷ ছাএ ছাত্রীদের দাবি তাদের পাশ করিয়ে দিতে হবে৷ ঘটনা স্থলে ছুটে যান বিদ্যালয় পরিদর্শক অমরেশ দাস, সহ বিদ্যালয় পরিদর্শক নৃপেন্দ্র চৌধুরী, নোয়াগাঁও হাই সুকলের প্রধান শিক্ষক সমীর রঞ্জন দাস,ও নোয়াগাঁও পঞ্চায়েতের প্রধান, উপ প্রধান সহ ছাএ ছাত্রীদের অভিভাবকরা৷এবিষয়ে আলোচনায় বসেন সমাধানের জন্য৷
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন সুকলের ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে শামিল হলেও এখনো পর্যন্ত পর্ষদ কর্তৃপক্ষ সকলকে পাস করিয়ে দেওয়ার মতো কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি৷ ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ডাক্তার ভবতোষ সাহা, ফলাফল ঘোষণার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ফলাফলে যারা খুশি হবে না তাদেরকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে৷কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে জানানো হয়েছে৷

