খোয়াই, ২০ জুলাই : খোয়াইয়ের ল্যাংড়া বাড়ি সীমান্ত থেকে অপহৃত দুই ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের জেল থেকে অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক এর কাছে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে খোয়াইয়ের ল্যাংড়া বাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে দুই ভারতীয় নাগরিক কে বিজিবি জওয়ানরা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তুলে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে গুরুপদ দেববর্মা ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষক। ল্যাংড়াবাড়ি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তাদের বাড়ি। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার উপরে তাদের জমি রয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা নিজের জমিতে চাষাবাদ এর কাজ করতে গিয়েছিল। সীমান্তের কাঁটাতারের গেট দিয়ে যাওয়ার সময় কর্তব্যরত বিএসএফের কাছে তারা আই কার্ড সহ অন্যান্য পরিচয় পত্র জমা রেখে গিয়েছিল। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজের জমিতে কাজ করতে গিয়ে অপহৃত হয় ওই দুই ভারতীয় নাগরিক। জানা গেছে বিজিবি জনরা তাদেরকে ভারতীয় ভূখণ্ডে লেবু বাগান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়।
তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করে আদালত থেকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তবে তাদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের পরিবারের তরফ থেকে কম করে পাঁচ বার কয় জেলার জেলাশাসককে জানানো হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত ভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোন ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এখনো তারা বাংলাদেশের জেলে আটকে রয়েছে। সে কারণেই ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক এর কার্যালয় ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করে অবিলম্বে বাংলাদেশের জেলে আটকে থাকা গুরুপদ দেববর্মা ও তার ভাইকে মুক্ত করে নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়।
ডেপুটেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে জানানো হলে রাজ্য সরকার কথাবার্তা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ অব্দি তাকে ফিরিয়ে আনার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি । ওই শিক্ষক এবং তার ছোট ভাই এখনো বাংলাদেশের জেলে রয়েছে। তাই ১০৩২৩ এর শিক্ষক শিক্ষিকারা মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয়ে পুলিশের মহানির্দেশক এর কাছে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। বাংলাদেশের জেলে আটকে রাখা রাজ্যের দুই নাগরিককে অবিলম্বে উদ্ধার করে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। প্রায় পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশের জেলে আটকে থাকায় সংশ্লিষ্টদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তারা অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন কখন গুরুচরণ দেববর্মা ও তার ছোট ভাই বাড়ি ঘরে ফিরে আসবেন।



















