নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন৷৷ ৪৫-ঊর্ধদের টিকাকরণে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ত্রিপুরা৷ রাজ্যের ৯২ শতাংশ ৪৫-ঊর্ধদের প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক রাজ্যওয়াড়ি যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে তাতে এই তথ্য প্রমাণিত হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে কোভিড যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন৷ সেই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মী ও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷
এখন প্রশ্ণ হল, কীভাবে এই সাফল্য পেল ত্রিপুরা? নেপথ্য কাহিনিটা কী? সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের নিবিড় পরিকল্পনা, সময়ান্তরে তাঁর পর্যালোচনা এবং আধিকারিক, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমেই দেশের শীর্ষে পৌঁছতে পেরেছে রাজ্য৷ শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থা নয়, এক্ষেত্রে রাজ্যের শাসকদলের সংগঠনও ত্রিপুরাকে শীর্ষে পৌঁছতে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজে দলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন, টিকাকরণকে বুথ স্তরে পৌঁছে দিতে হবে৷ বিজেপির যুবমোর্চাও টিকাকরণকে বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে৷
ক্লাব, মার্কেট কমপ্লেক্স, সামাজিক সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার মধ্য দিয়েও টিকাকরণে গতি সঞ্চারিত হয়৷ এই সমগ্র পরিকল্পনাই মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত বলে সরকারি সূত্রের দাবি৷ শুধুমাত্র পরিকল্পনা করেই থেমে থাকা নয়৷ তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, জেলা ও ব্লক স্তরে তার নিয়মিত পর্যালোচনা টিকাকরণকে সর্বজনীন আঙ্গিক দিতে পেরেছে৷ যা গোটা দেশের সামনে ত্রিপুরাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে৷
প্রথম ধাপেই টিকাকরণে গুরুত্ব আরোপ করে সপ্তাহব্যাপী টিকা-উৎসব শুরু করেছিল রাজ্য সরকার৷ তখনই ২ লক্ষ ২৭ হাজার মানুষ টিকা গ্রহণ করেন৷ পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়ে তুলতে প্রচারের ক্ষেত্রেও জোর দিয়েছিল প্রশাসন৷ ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৯৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৯৮ শতাংশ ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার্সদের টিকাকরণ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে৷ যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের৷ কারণ এই অতিমারির বিরুদ্ধে জীবনপণ যুদ্ধে তাঁরাই সামনের সারিতে৷ তাই তাঁদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের জায়গা৷ টিকাকরণকে একেবারে সার্বিক করে তুলতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রেও টিকাকরণের বন্দোবস্ত করেছে সরকার৷ সব মিলিয়ে প্রায় ১,১০০টি সেন্টারে এই টিকাকরণ চলছে৷

