নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ মে৷৷ রাজধানী আগরতলা শহরের রামনগরে বিয়ের ছাবিবশ দিনের মাথায় নিজের ঘরে স্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷ মৃত যুবকের নাম অনুরুদ্ধ চক্রবর্তী৷
রাজধানী আগরতলা শহরের রামনগর এক নম্বর রোডে বিয়ের ছাবিবশ দিনের মাথায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ মৃত যুবকের নাম অনুরুদ্ধ চক্রবর্তী৷ বাবার নাম পূর্ন চক্রবর্তী৷ বাড়ী রামনগর এক নম্বর রুটের দুই নম্বর ক্রসিংয়ে৷ ঘটনার বিবরণে জানা যায় গতকাল রাত ২ টা নাগাদ অনুরুদ্ধর স্ত্রী দুর্গাবতী ভট্টাচার্য তার শ্বশুর শাশুড়িকে জানায় অনুরুদ্ধ অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছে৷ সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরিবারের লোকজন লক্ষ্য করেন তার গলায় একটি দাগ রয়েছে৷ তাতেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়৷ পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে মৃতের স্ত্রী দুর্গাবতী ভট্টাচার্য জানান ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে তার স্বামী অনুরুদ্ধ চক্রবর্তী৷ মৃতদেহটির পাা দুটি মাটিতে লাগানো অবস্থায় ছিল৷ পুলিশ দুর্গাবতী ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে৷ এই ঘটনার পেছনে বড় ধরনের রহস্য রয়েছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে৷
ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ যেসব তথ্য পেয়েছে তার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে৷ মৃত অনুরুদ্ধ চক্রবর্তীর এক নিকট আত্মীয় জানান পুলিশ গৃহবধূ দুর্গাবতী ভট্টাচার্যকে তার শ্বশুর বাড়িতে থাকতে বলেছিল৷ কিন্তু সে তার বাপের বাড়িতে চলে গেছে৷ তার ভাই নাকি তাকে ওই বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে নিয়ে গেছে৷ দুর্গাবতী ভট্টাচার্যের বাপের বাড়ি সোনালী গেস্ট হাউজ সংলগ্ণ এলাকায়৷ জানা গেছে গৃহবধূ দুর্গাবতী ভট্টাচার্যের বাবা পল্টু ভট্টাচার্য বিজেপির নেতা৷ বিগত পুর নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল৷ তিনি প্রাক্তন মন্ডল সভাপতিও ছিলেন৷ মৃত অনুরুদ্ধ চক্রবর্তীর আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে তাদের আশঙ্কা৷ পশ্চিম থানার পুলিশ মৃতের পরিবারের লোকজনদের আশ্বস্ত করেছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে আসল রহস্য উদঘাটন করা হবে৷
বিজেপি নেতা কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে পশ্চিম ত্রিপুরা সাংসদ প্রতিমা ভৌমিকও আমন্ত্রিত ছিলেন৷ বিয়ের অনুষ্ঠানে বর কন্যাকে আশীর্বাদ করে তিনি ছবিও পোস্ট করেছিলেন৷ কিন্তু কে জানত বিয়ের ছাবিবশ দিনের মাথায় এ ধরনের অঘটন ঘটে যাবে৷

