আগরতলা, ৬ মে (হি. স.)৷৷ তিপ্রা মথা-য় মিশে গেল আইএনপিটি৷ বৃহত্তর স্বার্থে এবং শক্তিশালী দল গঠনে এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি আইএনপিটি নেতৃবৃন্দের৷ তবে এ-কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ত্রিপুরায় পাহাড় রাজনীতি-তে এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো আঞ্চলিক দলগুলি৷ তাতে স্পষ্ট, নবগঠিত তিপ্রা মথার গ্রেটার তিপ্রা ল্যান্ডের শ্লোগানে ক্রমশ বিলিয়ে যাচ্ছে জনজাতিভিত্তিক আঞ্চলিক দল৷ তিপ্রা মথার চেয়ারম্যান প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মণ-র দাবি, জনজাতি-দের মধ্যে ঐক্যের প্রশ্ণে আমরা এক ও অভিন্ন৷ তাই, আজ আইএনপিটি-র এই সিদ্ধান্তে আমি অত্যন্ত খুশি৷ তবে, দলের সকল অংশের নেতা-কর্মীরা এই সিদ্ধান্তে একমত নন একথা স্বীকার করে আইএনপিটি সুপ্রিমো বিজয় রাঙ্খলার দাবিতে অনেকেই অসন্তষ্ট হতেই পারেন৷ কিন্ত, বৃহত্তর স্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিল না৷
আজ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়ে প্রদ্যুত বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আমরা শুধুই একতার কথাই বলে যাচ্ছি৷ অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের পূর্বে জোট বাধেন৷ কিন্ত নির্বাচন ফুড়িয়ে যেতেই সম্প্রদায় এবং একতার কথা ভুলে যান, দাবি করেন তিনি৷ তাঁর কথায়, জনজাতিদের মধ্যে ঐক্য মজবুত করার লক্ষ্যে এবং দলকে আরও শক্তিশালি করার জন্য আইএনপিটি নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি৷ তাতে, আমি ভীষণ খুশি হয়েছি৷
প্রদ্যুতের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এবং সময়োপযোগী৷ কারণ, আজ থেকে মাস ছয়েক আগেও ত্রিপুরায় ৭ থেকে ৮টি জনজাতিভিত্তিক আঞ্চলিক দল ছিল৷ কিন্ত, এখন এক বা দুইটি দল রাজনীতির ময়দানে টিকে রয়েছে৷ তাঁর দাবি, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের স্বার্থে আজ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ একটি পরিচয়ে জনজাতিদের স্বার্থে লড়াই-এ আইএনপিটি আজ তিপ্রা মথায় মিশে গেছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ৭০ বছর ধরে সম্প্রদায়গত এবং আদর্শগত আমরা বিভাজিত হয়ে রয়েছি৷ তাই, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মাত্র উদ্দেশ্যে লড়াই-এ আমরা একজোট হয়েছি৷
এদিন বিজয় কুমার রাঙ্খল বলেন, তিপ্রা চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দলকে আরো শক্তিশালি করার লক্ষ্যে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ তাতে, অনেকেই অসন্তষ্ট হয়েছেন ঠিকই৷ কিন্ত, পুরনো সাথীরা আমাদের বুঝবেন এবং একত্রিত হয়ে লড়াইয়ে যোগ দেবেন এমনটাই আশা রাখছি৷ তিনি বলেন, সামাজিকভাবে আমাদের দীর্ঘ সময় বয়কট করা হয়েছে৷ ভাষাগত এবং ঐতিহ্যগত পোশাক পরিধানেও আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্ত, আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি এবং তাতে গর্বিত বোধ করছি৷
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচনে তিপ্রা এবং আইএনপিটি জোট বেধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ২৮টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে৷

