আগরতলা, ৩০ এপ্রিল (হি. স.)৷৷ বেড়েই চলেছে করোনা-র প্রকোপ৷ গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৪১ জন৷ ৪৪২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ওই করোনা আক্রান্তদের সন্ধান মিলেছে৷ পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে গত বছরের থেকেও ভয়ানক পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে৷ কারণ, এবছর অতিমারির প্রভাব অনেক আগেই ত্রিপুরায় আছড়ে পড়েছে৷ গত বছর এমন সময়ে করোনার প্রভাব তেমনভাবে ত্রিপুরায় দেখা দেয়নি৷ তবে, গত ২৪ ঘন্টায় ৬৭ জন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়েছেন৷ তাতে, সামান্য স্বস্তি মিলেছে৷ বর্তমানে ত্রিপুরায় করোনা আক্রান্ত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০৯৩৷ কিন্ত, করোনা আক্রান্ত একজনের মৃত্যু-ও হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, সংক্রমণ-এ পশ্চিম জেলা শতক হাকিয়েছে৷ এদিকে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় নৈশকারফিউর মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে৷
স্বাস্থ্য দফতরের মিডিয়া বুলেটিন অনুসারে, গত ২৪ ঘন্টায় আরটি-পিসিআর ১০১৮ এবং রেপিড এন্টিজেনর মাধ্যমে ৩৪০৪ জন মোট ৪৪২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে, আরটি-পিসিআর ২৬ জন এবং রেপিড এন্টিজেন-এ ১১৫ জনের দেহে করোনা-র সংক্রমণ মিলেছে৷ সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় মোট ১৪১ জন নতুন করোনা সংক্রমিত-র খোজ পাওয়া গেছে৷
তবে, সামান্য স্বস্তির খবর-ও রয়েছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় ৬৭ জন করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেয়েছে৷ তাতে, বর্তমানে করোনা আক্রান্ত সক্রিয় রোগী রয়েছেন ১০৯৩ জন৷ প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত ৩৫১৬৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৩৬২২ জন করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়েছেন৷ বর্তমানে ত্রিপুরায় করোনা আক্রান্তের হার ৪.৯৯ শতাংশ৷ তেমনি, সুস্থতার হার ৯৫.৭৬ শতাংশ৷ এদিকে মৃতের হার ১.১২ শতাংশ৷
স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে খবর, ক্রমাগত পশ্চিম জেলায় সংক্রমণ-এ শীর্ষে থাকছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণ শতক-র ঘরে পৌছে গেছে৷ নতুন করে পশ্চিম জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১০০ জন, দক্ষিন জেলায় ৯ জন, গোমতি জেলায় ৭ জন, ধলাই জেলায় ৬ জন, সিপাহীজলা জেলায় ৮ জন, উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ৩ জন এবং উনোকোটি জেলায় ৬ জন এবং খোয়াই জেলায় ২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷
ত্রিপুরায় নৈশকালীন কারফিউ-র মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে৷ বিভিন্ন প্রান্তে ছড়াচ্ছে যা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে৷ এই মহামারি প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে মহামারি বিরাট আকার ধারণ করতে পারে৷ তাই ত্রিপুরা স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির স্টেট এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মুখ্যসচিব মনোজ কুমার এক আদেশে আগামী ৩১ মে, ২০২১ পর্যন্ত কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছেন৷
বিধিনিষেধগুলি হচ্ছে, করোনা নাইট কার্ফু: আগরতলা পুর নিগম এলাকায় ৩১ মে ২০২১ পর্যন্ত রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কার্ফু বলবৎ থাকবে৷ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণ বা অন্য কোনও আপতকালীন বিষয় কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবা, পুলিশ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, পানীয় জল সরবরাহ, সংবাদমাধ্যম ইত্যাদির সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ কার্ফুর আওতার বাইরে থাকবেন৷ এই আদেশ কার্যকর করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ ২) জমায়েতের উপর থাকবে বিধিনিষেধ: সামাজিক / রাজনৈতিক / খেলাধূলা / বিনোদনমূলক / শিক্ষামূলক / সাংসৃকতিক / মেলা / উৎসব ইত্যাদি সমস্ত অধিক সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজনে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে৷ এসব ক্ষেত্রে আয়োজকরা জেলা প্রশাসন থেকে আগাম অনুমতি নেবেন৷ দেওয়াল পরিবেষ্টিত স্থান বা হলঘরে অনুষ্ঠিত যে কোনও সামাজিক, সাংসৃকতিক, বিনোদনমূলক বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে মোট বসার জায়গার ৫০ শতাংশ (সবর্োচ্চ ১০০ জন) পূরণ করা যাবে৷ উন্মুক্ত স্থানে মাঠের আয়তন অনুসারে ২০০ জন পর্যন্ত জমায়েতের অনুমতি দেওয়া যাবে৷ তবে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা রাখতে হবে৷ আয়োজকরা এসব নিয়মনীতি অনুসরণ করার জন্য উপযুক্ত সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন৷
সরকারি কিংবা বেসরকারি স্থানে বিবাহ / জন্মদিন ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১০০ জনের বেশি লোকের জমায়েত হতে পারবে না৷ দাহক্রিয়া / অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ২০ জন পর্যন্ত লোকের জমায়েত হতে পারবে৷ সিনেমা হল / মাল্টিপ্লেসগুলি অর্ধেক আসন খালি রেখে চলতে পারবে৷ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের বাড়িতে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ বাকিদেরও অপ্রয়োজনীয় চালচল বন্ধ রাখতে এবং ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুসারে জেলা প্রশাসন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সাথে পরামর্শক্রমে কন্টেইনমেন্ট জোন / মাইক্রো কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করবে৷ কন্টেইনমেন্ট জোন এবং তার বাইরের এলাকার মধ্যে সংক্রমণের ধারাকে ছিন্ন করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে৷ নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৫ অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তাছাড়াও ‘দ্য এপিডেমিক ডিজিজ কোভিড-১৯ রেগুলেশনস ২০২০ অনুসারে বিধিনিষেধ জারি করে বলা হয়েছে যে কর্মস্থল৷ পাবলিক প্লেস কিংবা ভ্রমণকালে বা ড্রাইভিং-এর সময় মাস্ক / মুখাবরণ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক৷
গণ পরিবহণ ব্যবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দোকানগুলি চালু রাখা হবে৷ দোকানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে হবে৷ যেসব দোকানের সামনের অংশ এক মিটারের কম প্রশস্ত সেসব দোকানে এক সময়ে মাত্র একজন ক্রেতাকে ঢুকতে দেওয়া হবে৷ এক মিটারের বেশি এবং দুই মিটারের কম প্রশস্ত দোকানে এক সাথে দু’জন ক্রেতা ভেতরে যেতে পারবেন৷ বাকিরা পিছনে অপেক্ষায় থাকবেন৷ ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিদিন দোকান স্যানিটাইজ করতে হবে৷
তাছাড়াও আদেশে বলা হয়েছে মাস্ক পরিধান না করলে প্রথমবার ২০০ টাকা জরিমানা এবং পরবর্তীকালে প্রতিবার ৪০০ টাকা করে জরিমানা হবে৷ তেমনি উল্লিখিত স্থানগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভঙ্গ করলে ১০০০ টাকা জরিমানা হবে বলে এই আদেশে জানানো হয়েছে৷