পুণে, ২৪ জানুয়ারি (হি. স.) : আবাসিকদের জীবনযাপন এবং জেলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসকে এবার সচক্ষে দেখার সুযোগ এনে দিচ্ছে মহারাষ্ট্র সরকার। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে ‘জেল ট্যুরিজম’। পুণের ইয়েরওয়াড়া জেল থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। ওই দিন ‘জেল ট্যুরিজম’-এর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এবং উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “এই জেলের সঙ্গে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে আছে। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী এই জেলে ছিলেন।” বৃটিশ সরকার ১৮৩৮ সালে মহাত্মা গান্ধী, লোকমান্য বালগঙ্গাধর তিলক, মতিলাল নেহেরু, পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল, সরোজিনী নাইডু ও সুভাষচন্দ্র বসুকে বেশ কয়েক মাস ধরে ইয়েরওয়াড়া কারাগারে বন্দী রেখে নির্যাতন চালিয়েছিলেন। আবার ২৬ জানুয়ারি ২০০৮ এ মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো আজমল কাসাভকে এই কারাগার থেকেই ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।
এই জেলের সঙ্গে কোন ইতিহাস জড়িয়ে আছে তা জানার সুযোগ মিলবে পড়ুয়াদের। জেলের ভিতরে পরিবেশ কী রকম, কয়েদিদের জীবনযাপন-সহ নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে পড়ুয়াদের এই জেলে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে। জেলের ভিতরে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে সাধারণ মানুষকেও। ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফি করা নিষিদ্ধ করা হবে। জেল ভ্রমণের সময় পুরো সুরক্ষা ব্যবস্থা করা হবে। ইয়েরওয়াড়া জেল দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হলেও রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলকে এই পর্যটনের আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশমুখ। নাগপুর এবং নাসিক জেলেও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে এই পর্যটন চালু করা হবে।

