পৃথক জায়গায় যান দূর্ঘটনায় হত ২, আহত ৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঞ্চনপুর/ উদয়পুর/ আগরতলা, ২১ জানুয়ারি৷৷ সড়র সুরক্ষা সপ্তাহের মাঝেই যান দূর্ঘটনায় প্রাণ হারাল দু’জন৷ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন৷ প্রতিটি দূর্ঘটনার পিছনেই বেপরোয়া ভাবে যানবাহন চালানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে৷
বৃহস্পতিবার পূর্ত দপ্তরের কর্মচারী বিভাস বড়ুয়া (৪৩ ) পিতা মৃতু কানু বড়ুয়া বাড়ী কঞনপুর৷ জম্পুই হিলে ভাইসাম এলাকায়৷ রোলারের চাপা পড়ে মৃত্যু হয়৷ আজ বিকাল দুইটায়৷ এ ব্যাপারে ভাঙমুন থানায় জি ডি এন্িন্ট করা হয়৷ মৃতদেহটি কাঞ্চনপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসা হয়৷ আগামীকাল ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা যায়৷ তাঁর দুটি ছেলে এবং মেয়ে রয়েছে৷ পরিবারের কর্তার মৃত্যুতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন৷ কাঞ্চনপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷


এদিকে, বেপরোয়া নেশাগ্রস্ত বাইক চালকের বদান্যতায় প্রাণ গেলো যুবকের৷ ঘটনা উদয়পুর মহকুমা খিলপাড়া বাজার সংলগ্ণ এলাকায়৷ সাগর দে, পিতা শ্রী সমীর দে৷ বয়স-২৪ বৎসর৷ বাড়ি খিলপাড়া বাজার সংলগ্ণ এলাকায়৷ পেশায় উদয়পুর নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয়ের শরীর চর্চা বিভাগের ছাত্র৷ গতকাল বুধবার বিকাল আনুমানিক দুইটা পঁয়ত্রিশ মিনিটে সাগর বাড়ি থেকে খিলপাড়া বাজার স্থিত নিজ দোকানে বাই সাইকেল নিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল৷ এমন সময় খিলপাড়া জামজুড়ি বাজারের দিক থেকে আসা টিআর-০৩এইচ ৮৭৯৫ নম্বরের নীল রংয়ের বাইকের চালক ও সহচরী বাইকটি সাগরের শরীরের উপর দিয়ে চালিয়ে দেয়৷ সাথে সাথেই সাগর বাইসাইকেলের নীচে চাঁপা পড়ে যায়৷ বাইক চালক ও সহচর দুজনেই বাইকের নীচে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী দৌড়ে এসে উভয়কেই বাঁচানোর চেষ্টায় উদয়পুর অগ্ণি নির্বাপক দপ্তরে খবর দেন৷ খবর পাওয়ার সাথে উদয়পুর অগ্ণি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা আহত সাগর দে, বাইক চালক হোলাখেতের উত্তম কুমার মজুমদারের ছেলে রূপক মজুমদার সহ অন্য বাইক আরোহীকে তেপানিয়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সাগরের বাঁ পায়ের হাঁটু ও গোড়ালির মাঝামাঝি অংশের হাড় ভেঙে দুটুকরো হয়ে যাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে জি বি হাসপাতালে রেফার করে এবং বাইক চালক রূপক মজুমদারকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেন৷ সাগরকে বাড়ির লোকজন আগরতলা জি বি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাথে সাথে এক্সরে করে পা প্লাস্টার করে আজ অপারেশন করবেন বলে জানিয়ে দেন৷ ডাক্তার সাগরের রক্ত স্বল্পতার কথা বলে দুই বোতল রক্ত সংগ্রহ করার কথা বলার সাথে সাথেই এক বোতল রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং সাগরের শরীরে দেওয়া হয়৷


এরই মধ্যে সাগরের কোমড়ে অস্বাভাবিক ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় এবং শ্বাস নিতে ও ফেলতে অসুবিধা দেখা দেয়৷ সাথে সাথে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাড়ির লোকদের আরেক বোতল রক্ত সহ সাগরকে আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার কথা বলেছেন৷ সাগরকে আই সি আসতে ভর্তির কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বাবুরা সাগরের বাড়ির লোকদের বলেন সাগরের আর বেশিক্ষণ আয়ু নেই৷ সাগরের পালস রেট ধীরে ধীরে কমতে থাকে৷ শেষ পর্যন্ত রাত একটা পঁয়ত্রিশ মিনিটে সাগর বাবা সমীর দে সহ আত্মীয়-বন্ধু -প্রতিবেশীর সামনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে৷ গতকাল রাতে সাগরের নিথর দেহ জি বি হাসপাতালের মর্গে রাখার পর আজ দুপুরে ময়না তদন্তের পরে আত্মীয় পরিজনের হাতে সাগরের মরদেহে তোলে দেওয়া হয়৷ সাগরের নিথর দেহ উদয়পুর খিলপাড়া স্থিত নিজ বাস ভবনে আনার পর হাজার হাজার আত্মীয়-বন্ধু- ইয়ং সোসাইটি ক্লাবের সদস্যরা সহ এলাকাবাসি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চোখের জলে সাগরকে শেষ বিদায় জানান৷ সাগরের নিথর দেহ প্রথমে উদয়পুর নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয়ে, সেখান থেকে নিজ বাড়ি এবং শেষে নিজ ক্লাব ইয়ং সোসাইটিতে নিয়ে গেলে এভিবিপির সদস্যরা, গোমতি জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি যথাক্রমে স্বপন অধিকারী ও দেবল দেবরায়, ৩১ আর কে পুর মন্ডলের সভাপতি প্রবীর দাস, গোমতি জেলা বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়, যুব মোর্চার সভাপতি রাকেশ শীল সহ ক্লাব সদস্যরা পুষ্প মাল্য অর্পণ করেন৷ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ পরবর্তীতে সাগরের মরদেহে উদয়পুর লোকনাথ আশ্রমে বৈদিক শাস্র মতে সৎকার করা হয়৷

এলাকাবাসী অবিলম্বে ঘাতক বাইকের চালককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দিতে হবে৷ সাগরের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে নিরীহ বাইসাইকেল চালক সাগরের এক বোন পূজা সহ সকলে কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ সাগর দেহ সৌষ্ঠব প্রতিযোগিতায় অনেক পুরস্কার পেয়েছে৷ ত্রিপুরা বডি বিল্ডার্স এসোসিয়েশনের সদস্য ছিল সাগর৷ আগামী মাসেও দেহ সৌষ্ঠব তথা বডি বিল্ডার্স প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার কথা ছিলো সাগরের৷ সামাজিক মাধ্যম সাগরের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে আগরতলা থেকে এই প্রতিবেদকের সাথে ফোনে ত্রিপুরার কৃষি পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় যোগাযোগ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন৷ পুলিশ ঘাতক বাইকটি থানায় নিয়ে গেলেও বাইক চালক রূপক মজুমদার ও বাইক আরোহীকে খবর লেখা পর্যন্ত আটক করতে পারেনি৷ এ নিয়ে এলাকাবাসি একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন এবং প্রশ্ণ রাখেন মদমত্ত/নেশাগ্রস্ত বাইক ও গাড়ি চালকের খামখেয়ালি পনার জন্য আর কত নিরীহ মানুষের মৃত্যু হবে ?


এদিকে, টাকার জলা এবং সোনামুড়া থানা এলাকায় দু’টি পৃথক পথদুর্ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন৷ আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷সংবাদ সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার সকালে টাকার জেলা থেকে গোলাঘাটি আসার পথে একটি টাটা টিয়াগো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে৷ অল্পের জন্য গাড়িটি গভীর খাদে পড়ে যায় নি৷ রাস্তার পাশে গাছে আটকে গেছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি৷ গাড়িতে থাকা ৪ জন যাত্রী গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন৷ আহত যাত্রীদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন৷ আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে৷ চালকের অসাবধানতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর৷ টাকার জলা থানার পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷এদিকে সোনামুড়ার করালিয়া মোরা এলাকায় মসজিদ সংলগ্ণ স্থানে একটি পিকনিক ফেরত ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে৷ তাতে ৪ জন যাত্রী আহত হন৷ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনামুড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে৷ চালকের দ্রুতগামীতা এবং অসাবধানতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ ঘটনার খবর পেয়ে সোনামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়৷ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷