নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১৬ জানুয়ারি৷৷ নিজ ঘর থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির আগুনে ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য৷ ঘটনার তেলিয়ামুড়া থানাধীন নয়নপুর চামপ্লাই এলাকায়৷
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়া থানাধীন নয়নপুর চাম প্লাই এলাকার বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের ৪৫ বছর বয়সী ছেলে সজল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ছিল৷ ফলে তার স্ত্রীর সাথে প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত৷ এই ঝগড়া বিবাদ অনেক সময় হাতা-হাতিতেও রূপ নিয়েছিল৷ সজলের স্ত্রী ও দুই পুত্র নিয়ে চারজনের সংসার৷
আগে টমটম চালাতো সে, কিন্তু বর্তমানে সে স্থানীয় ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতো৷ সজলের স্ত্রী এবং বড়ো পুত্র টুটনের সাথে হামেশাই ঝগড়া-বিবাদ এবং সংসারে অশান্তি লেগে থাকত৷ ফলে বাধ্য হয়ে সজলের স্ত্রী এবং বড় ছেলে টুটন নয়নপুর চাম প্লাই স্থিত বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতো৷ আর সজল তার ছোট ছেলের সাথে চামপ্লাই স্থিত নিজ বাড়িতে থাকতো৷ একই বাড়িতে সজলের মা এবং বাবা আলাদা থাকতো৷
শনিবার বিকাল আনুমানিক তিনটা নাগাদ এলাকাবাসীরা প্রত্যক্ষ করে সজল যে ঘরে থাকতো সেই ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলজ্বল করছে৷ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে এলাকাবাসীরা খবর দেয় তেলিয়ামুড়া অগ্ণিনির্বাপক দপ্তরে৷ কিন্তু তেলিয়ামুড়া মহকুমা একই নামে দুটো জায়গা থাকায় তারা বিভ্রান্তিতে পরে যায়৷ এবং এলাকায় তেমন ভালো রাস্তাঘাট না থাকার দরুন ঘটনাস্থলে যেতে অগ্ণিনির্বাপক দপ্তরকে বেশ বেগ পেতে হয়৷ পরে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীরা নিজ প্রচেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে৷ যদিও এলাকাবাসীরা সজলকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়৷ ঘটনার খবর আছে তেলিয়ামুড়া থানায়৷ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তেলিয়ামুড়া থানার এসআই শ্যামল দাসের নেতৃত্বে পুলিশ৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্ণিদগ্দ সজলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ যদিও পুলিশ একটি মৃত্যু মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে৷ রবিবার ময়নাতদন্তের পর সজলের মৃতদেহ পরিবার-পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়৷

