আগরতলা, ২৪ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ ইংরেজি নতুন বছরের প্রাক-মুহূর্তে বিরাট সাফল্য হাতে এসেছে ত্রিপুরা পুলিশের৷ ত্রিপুরাকে উগ্রবাদমুক্ত রাজ্য গঠনের লক্ষণীয় পদক্ষেপ হল উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি, বিশেষ করে এনএলএফটি-র অবশিষ্ট ক্যাডারদের জীবনের মূল স্রোতে নিয়ে আসা৷ এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ত্রিপুরা পুলিশ উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করার জন্য শান্তির পথ অনুসরণ করছে৷ তাই ত্রিপুরা পুলিশের প্রচেষ্টায় উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যরা ইতিমধ্যে শান্তির পথ বেছে নিয়েছে৷ আজ বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে এনএলএফটি-র বিএম গোষ্ঠীর চার সক্রিয় সদস্য অস্ত্রশস্ত্র সমেত আত্মসমর্পন করার পর এ-কথা বলেন ডিজিপি ভিএস যাদব৷ তাঁর কথায়, উগ্রপন্থা জীবন ধবংস করে দেয়৷
ডিজিপি বলেন, গোমতি জেলার অম্পি থানাধীন তুইসেন কামি এলাকার বাসিন্দা এসএস সহকারী পররাষ্ট্র সচিব রথম কলই ওরফে রিউবেন, একই জেলার কিল্লা থানাধীন সাইমারা এলাকার বাসিন্দা এসএস সহকারী সাংগঠনিক সচিব জয়সাধন জমাতিয়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার থানাধীন দক্ষিণ টাকমাছড়া এলাকার বাসিন্দা এসএস তথ্য ও প্রচারসচিব মধুরঞ্জন নোয়াতিয়া এবং ধলাই জেলার মনু থানাধীন পশ্চিম করমছড়ায় আশাচন্দ্র পাড়ার বাসিন্দা এসএস ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ কুকিলা ত্রিপুরা ওরফে ইয়ারুঙ আজ আত্মসমর্পন করেছে৷ তারা একে-৫৬ রাইফেলস দুটি, একে বায়নেট একটি, একে ম্যাগাজিন চারটি, একে গোলাবারুদ ১১৯ রাউন্ড, ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেট একটি এবং ১.৫ লক্ষ মিয়ানমার মুদ্রা (কিয়াত) জমা দিয়েছে৷
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জাতে পেরেছে, নভেম্বর ২০১৮ থেকে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত এনএলএফটি (বিএম) গোষ্ঠীর ওই আত্মসমর্পণকারী সহ মোট ১৭ জন নেতা / ক্যাডার মায়ানমারের টেগায় অবস্থিত কেওয়াইকেএল (কঙ্গেলি ইওল কান্না লুপ) ক্যাম্পে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিল৷ উত্তরপূর্বের অন্যান্য উগ্রবাদী তাদের সাথে ছিল৷
ডিজিপি বলেন, উগ্রপন্থী নেতারা এখন বুঝতে পেরেছেন ত্রিপুরার স্বাধীনতার জন্য তাদের তথাকথিত লড়াই পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং রাজ্যের আদিবাসীদের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশ্ণে ভবিষ্যতে সফলতা অর্জনে কোনও সম্ভাবনা নেই৷ অন্যদিকে, বর্তমানে এনএলএফটি (বিএম) গোষ্ঠী গুরুতর আর্থিক এবং সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে৷ এনএলএফটি-র বর্তমান পরিস্থিতি এবং ত্রিপুরা পুলিশের ক্রমাগত চাপ ও অনুপ্রেরণায় তাদের সমাজের মূলস্রোতে যোগ দিতে আকৃষ্ট করেছে৷ এই আত্মসমর্পণগুলি যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যোজনার অধীনে পুনর্বাসন দেওয়া হবে৷