আগরতলা, ২৩ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ মানবজীবনে সংস্থানের ভূমিকা অতি গৌণ৷ ত্রিপুরাকে দেখে উপলব্ধি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে৷ তাঁর কথায়, এ-রাজ্যের মানুষের হৃদয়, তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট ত্রিপুরাবাসীর বিশালতার পরিচয়৷ ত্রিপুরায় এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত৷
বুধবার ত্রিপুরা সফরে এসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে উদয়পুরে মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন৷ সেখানে তিনি পূজা দিয়েছেন৷ উদয়পুর থেকে আগরতলায় ফিরে ত্রিপুরা হাইকোর্টে ই-সেবা কেন্দ্রের সূচনা করেছেন প্রধান বিচারপতি৷
ত্রিপুরা সফরে মানুষের আদর ভালোবাসা পেয়ে ভীষণ আপ্লুত তিনি৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি কখনও ভাবিনি ত্রিপুরার মানুষ এত বড় মনের হবেন৷ তাঁদের চরিত্রে উদারতার ছাপ মিলবে৷ শুধু তা-ই নয়, ১৯৭১ সালে শরণার্থীদের যেভাবে ত্রিপুরাবাসী প্রাণ খুলে নিজেদের ঘরে থাকার জায়গা দিয়েছেন, তার প্রশংসায় তিনি ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না৷ তাঁর কথায়, এই রাজ্যের মানুষের কাছে সংস্থানের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে৷ কিন্তু, ত্রিপুরা বুঝিয়ে দিয়েছে মানবজীবনে সংস্থানের ভূমিকা খুবই গৌণ৷ কারণ, মানুষের হৃদয়, তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট ত্রিপুরাবাসীর বিশালতার পরিচয় বহন করছে৷ তাই, ত্রিপুরা সফরে এসে আমি ভীষণ আনন্দিত, বলেন তিনি৷
প্রধান বিচারপতি আরও ভাবেননি, প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা অনেক উন্নত হবে৷ তাঁর কথায়, আদালতকে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম৷ আমি চেয়েছিলাম, ন্যায়বিচার প্রযুক্তি-নির্ভর হোক৷ কারণ, অতিমারির সময় এ-ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না৷ বিকল্প হিসেবে আদালত বন্ধ করে দিতে হতো৷ সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের পক্ষে তা কখনওই সম্ভব ছিল না, বলেন তিনি৷
তিনি বলেন, হাইকোর্টে ই-সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট ভালো৷ তাতে প্রযুক্তির সহায়তায় আদালত মানুষের হাতের নাগালে চলে আসছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, হাইকোর্টে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ত্রিপুরার শিল্প-কলা সামনে রেখে প্রদান করা হচ্ছে৷
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এ কুরেশি বলেন, ডিজিটাল পরিষেবা একেবারে নতুন বিষয় না হলেও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানব সম্পদের সমন্বয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ত্রিপুরার মানুষের উদারতার কথা চিন্তা করে সংবিধানে নিহিত সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক ন্যায় প্রদানের ক্ষেত্রে সীমিত সম্পদ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি৷
এই ই-সেবা কেন্দ্র সাধারণ মানুষের আদালত সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে৷ এই কেন্দ্রের মূল পরিষেবার মধ্যে রয়েছে বিচার ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা৷ এই কেন্দ্রে কম্পিউটার, স্ক্যানার, ল্যান, ইকিয়স্ক ইত্যাদি সুুবিধা থাকবে৷ হিন্দী/ইংরেজি/স্থানীয় ভাষায় তথ্য পুস্তিকা থাকবে৷ এই কেন্দ্র সমস্ত কাজের দিন খোলা থাকবে এবং বিনামূল্যে সাধারণ মানুষ ও বার সদস্যদের পরিষেবা প্রদান করবে৷ এতে ল্যাণ্ডলাইন/মোবাইল/হোয়াটস অ্যাপ নম্বর থাকবে, ই-ফাইলিং অব পিটিশন, ই-স্ট্যাম্প/পেমেন্ট, ই-মুলাকাতের জন্য সময় নির্ধারণ করা, কোর্ট রায়ের সফট কপি প্রদান, বিনামূল্যে আইনী পরিষেবা প্রদান ইত্যাদি করা হবে৷
অনুষ্ঠানের শুরুতে সুুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে রবীন্দ্রনাথের কবিতা সম্বলিত এক মারকপত্র দিয়ে সম্মানিত করা হয় এবং অন্যান্য অতিথিদের রিসা দিয়ে বরণ করা হয়৷ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি এস তলাপাত্র, এস জি চ্যাটার্জি, গৌহাটি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ সিং প্রমুখ৷