আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশন সমস্ত ২০টি পুর সংস্থার ভোটগ্রহণ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে৷ ফলে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ওই পুর সংস্থায় প্রশাসক নিয়োগ করা হবে৷ প্রশাসক নিযুক্তির বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নগরোন্নয়ন দফতর৷ কংগ্রেস এবং সিপিএম ত্রিপুরা সরকারের এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে৷ একই সঙ্গে, বিজেপি সুর চড়িয়ে বলেছে, আমরা যখন মাঠে নামব তখন দেখে নেব কার কত শক্তি৷
প্রসঙ্গত, সমস্ত নগর সংস্থার মেয়াদ কয়েক দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়ে যাবে৷ ত্রিপুরায় একটি পুর নিগম, ১৩টি পুর পরিষদ এবং ছয়টি নগর পঞ্চায়েত রয়েছে৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, করোনার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
ত্রিপুরা সরকারের নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব কিরেন গিত্তের জারিকৃত আদেশে বলা হয়েছে, রাজ্যের নগর সংস্থার নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে৷ ফলে ওইসব সংস্থার মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার তারিখ থেকে প্রশাসক নিয়োগের আদেশও দিয়েছেন তিনি৷
সেই আদেশ অনুযায়ী পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক আগরতলা পুর নিগমের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন৷ এছাড়া মহকুমাশাসকরা স্থানীয় নগর সংস্থা দেখাশোনা করবেন৷ আদেশে জানানো হয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন ত্রিপুরার নগর সংস্থাগুলির সাধারণ নির্বাচন আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে৷
বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রবীণ সিপিআইএম নেতা পবিত্র কর বলেন, প্রায় সব রাজ্যেই নির্বাচনের ঘোষণা করা হচ্ছে৷ তবে ত্রিপুরার ক্ষেত্রে সরকার কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে না৷ তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিহারে নির্বাচন হয়েছে৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রচার করেছেন৷ কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট এবং হায়দরাবাদে স্থানীয় নগর সংস্থাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ কিন্তু, শুধু ত্রিপুরায় কোনও নির্বাচন ঘোষণা হচ্ছে না৷ তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাসীন বিজেপি ত্রিপুরায় দলের শেকড় হারিয়েছে এবং এই মুহূর্তে নির্বাচনে ভয় পাচ্ছে৷ তাই তারা নির্বাচন স্থগিত থাকুক চাইছে৷
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও নির্বাচন স্থগিত করেছিল৷ তবে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ তাদের স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় বাধ্য করেছিল৷ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ত্রিপুরা সরকারের এটি একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ৷ আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই৷ এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষকান্তি বিশ্বাস শীঘ্রই নির্বাচনের ঘোষণা না করলে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হওয়ার হুমকি দিয়েছেন৷
বিরোধীদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির প্রদেশ মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত রেখেছে৷ ফলে সময় যখন আসবে, আমরা দেখব নির্বাচনে কে জেতে৷ আমরা এখনই কিছু বলব না৷ তবে, বিরোধীদের যদি কিছু বলার বা করার থাকে তবে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং পদক্ষেপও নিতে পারেন৷ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব, বলেন তিনি৷