এইডস মোকাবিলার একমাত্র উপায় সচেতনতা বৃদ্ধিই : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এইডস-মুক্তি সম্ভব৷ তাই, করোনা-র প্রকোপ মোকাবিলায় সচেতনতার পাশাপাশি এইডস রোগ নিয়েও সকলের সমানভাবে ভাবতে হবে৷ আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাভবনে ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্েন্টাল সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক বিশ্ব এইডস দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে এ-কথাগুলি বলেন৷


তাঁর কথায়, ত্রিপুরাকে এইডস-মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন, স্ব-সহায়ক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সুকল-কলেজের এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের বেশি করে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সংযুক্ত করতে হবে৷ পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে এক মাসব্যাপী এইডস সচেতনতার উপর বিভিন্ন কর্মসূচি সংগঠিত করার উদ্যোগ নিতে হবে ত্রিপুরা রাজ্য এইডস কন্েন্টাল সোসাইটিকে৷ তবেই দেশের মধ্যে ত্রিপুরাকে সবার আগে এইডস-মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, দাবি করেন তিনি৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এইডস রোগ প্রতিরোধ করার একমাত্র উপায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা৷ আর এই কাজটি সরকারের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়৷ এর জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সামাজিক সংগঠনকেও গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে এগিয়ে আসতে হবে৷ তাঁর বক্তব্য, দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণ-আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং দেশবাসী এই গণ-আন্দোলনে শামিলও হয়েছেন৷ ফলস্বরূপ দেশে বর্তমানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে৷ ত্রিপুরা সরকারও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুব্যবস্থার মাধ্যমে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করছে৷ তাতে ব্যাপক সফলতাও এসেছে, দাবি করেন তিনি৷


তাঁর আরও দাবি, রাজ্যে বর্তমানে কোভিড আক্রান্ত মোগীর সুস্থতার হার ৯৭.১৫ শতাংশ৷ এছাড়া গত ৭ দিনে কোভিড আক্রান্ত একজন রোগীরও মৃত্যু হয়নি৷ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেই সেটা সম্ভব হয়েছে৷ রাজ্যে এইডসকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রেও ঠিক সে-রকমই জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে এইডস রোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাস স্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় মাসব্যাপী প্রচারমূলক অভিযান সংগঠিত করার উদ্যোগ নিতে হবে রাজ্য এইডস কন্েন্টাল সোসাইটিকে৷ সেখানে এইডস রোগের উপর আলোচনার পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয়ও সংযোজন করতে হবে, যাতে জনগণের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পায়৷ এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে তোলার উপরও সোসাইটিকে গুরুত্ব দিতে হবে৷


এদিন তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নর্থ-ইস্ট কাউন্সিলের বৈঠকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ২০২২ সালের মধ্যে ড্রাগমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ রাজ্য সরকার সেই দিশায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে৷ শুধু তা-ই নয়, প্রধানমন্ত্রীর ভোকাল ফর লোকাল আহানে সাড়া দিয়ে রাজ্য সরকার স্বনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে৷ তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় রাজ্যেই এখন মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে৷ তাছাড়া ত্রিপুরাই দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য যেখানে এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে কোভিড টেস্টিং করানো হয়েছে৷ তাঁর পরামর্শ, ত্রিপুরায় এইডস প্রতিরোধেও এইডস কন্েন্টাল সোসাইটিকে এইচআইভি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে৷ এর জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সোসাইটিকে কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷