নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ২৮ নভেম্বর৷৷ স্বরস্বতী শুক্লা দাস দে ও শুক্লা দে মাঝি শুক্রবার দুপুরে তাদের ছোট ছোট সন্তান নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে দক্ষিণ জেলার জেলা কার্যালয়ের সামনে ধর্না দিল শ্বশুর বাড়িতে নির্যাতিতা দুই মহিলা৷ তাদের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে আরক্ষা প্রশাসন ও মহিলা কমিশনের দরজা বার বার কড়া নেড়েও বিচার পাননি বিচার পাওয়ার আশায় বাধ্য হয়ে এই ধর্না৷ যদি এখান থেকেও বিচার না পাই আগামী দিন আরো বড়ো ধরনের পদক্ষেপ নেবো৷
মা বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের বিয়ে দিয়েছে৷ স্বামীর ঘরে সুখে সংসার করার জন্য দাবি মোতাবেক পনও দিয়েছে৷ তারপরেও শ্বশুরবাড়িতে আমরা নির্যাতিতা৷ ছোট ছোট সন্তান নিয়ে আমরা দিশেহারা৷ কি করবো বিচারের আশায় এ দরজা ও দরজা ঘুরছি যাতে আমাদের সমস্যা সমাধান হয় কিন্তু আজো হচ্ছে না৷ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন৷ আমরা ছোট ছোট সন্তান নিয়ে আইনের দরজায় কড়া নেড়ে চলছি৷ কবে পাবো বিচার , কবে আমরা স্বামীর সাথে সুখের সংসার করবো এই প্রশ্ণ তুলে ধর্না স্থলে কান্নায় ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতিতা দুই মহিলা৷
শুক্লা দে মাঝি বিকলাঙ্গ গৃহবধূ৷ সাথে রয়েছে একটি কন্যা সন্তান৷ শ্বশুরবাড়ি শান্তি বাজারের বাইখোরা থানাধীন মহুরীপুরের শংকরপুর ভক্তি মায়ের আশ্রম সংলগ্ণ এলাকায়৷ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়ি তে আশ্রয় নেয় ছোট কন্যা সন্তানকে নিয়ে৷ স্বামী অমিও মাঝি, শশুর রাখাল মাঝি, শাশুড়ি প্রণতি মাঝি ও ভাসুর সমীর মাঝির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলে বিকলাঙ্গ গৃহবধূ শুক্লা দে (মাঝি) এদের বিরুদ্ধে বাইখোড়া থানাতেও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করে নির্যাতিতা বিকলাঙ্গ গৃহবধূ শুক্লা দে৷ এরপর মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েও কোন কাজ হয় নি৷ নির্যাতিতা দুই বছর আগে মামলা করার পরও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি৷ মহিলা কমিশনকে জানিয়েও এই বিকলাঙ্গ গৃহবধূ কোন সুরাহা না পাওয়াতে অবশেষে দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ের সামনে ধর্না দেয় বিকলাঙ্গ গৃহবধূ শুক্লা দে মাঝি৷
অপর জন সরস্বতী শুক্লা দাস দে৷ বাপের বাড়ি বিলোনিয়া রাজনগর ব্লকের রাঙ্গামুড়া পঞ্চায়েতের বাহাদুর টিলা এলাকায়৷ ২০১২ সালে বিলোনিয়া রাজনগর ব্লকের রাধানগরের জহর টিলার বাসিন্দা খোকন দে এর সাথে বিবাহ হয় সামাজিক রীতিনীতি মেনে৷ কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্বামী খোকন দে মারধর শুরু করে এরপর চাপ দিতে থাকে টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য৷ এর পর দাবি মোতাবেক কয়েক বার টাকা এনে দিবার পরেও চলে নির্যাতন৷ কয়েক বার সালিশী সভাও হয়৷ এরপরেও সুধরায়নি সরস্বতী শুক্লা দাস দে এর স্বামী খোকন দে৷ ২০১৫ সালে মারধর করে স্বামী খোকন দে স্ত্রী সরস্বতী শুক্লা দাস দেকে ঘর থেকে বের করে দেয়৷ সেই থেকে আজও স্বামীর ঘর ছাড়া৷ অনেক বার প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়ে ও লাভ হয় নি৷ অবশেষে স্বামী খোকন দে , আরেকটি বিয়ে করে৷ স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন কি করে খোকন দে বিয়ে করেছে৷ বর্তমানে সরস্বতী শুক্লা দাস দে এর দুইটি পুত্র সন্তান নিয়ে অসহায় অবস্থা৷