বিশ্বজিৎ দেববর্মা ও শ্রীকান্ত দাসকে অন্তিম শ্রদ্ধা থামেনি আন্দোলন,থমথমে কাঞ্চনপুর ও পানিসাগর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ নভেম্বর৷৷ ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসন ইস্যুতে শনিবার পানিসাগরে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল তাতে নিহত ফায়ারম্যান বিশ্বজিৎ দেববর্মা এবং জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির শ্রীকান্ত দাসকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে৷ চোখের জলে তাঁদের বিদায় দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, থেমে নেই আন্দোলন৷ রবিবারও চলছে কাঞ্চনপুর মহকুমায় ধর্মঘট৷ নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রাখা হয়েছে কাঞ্চনপুর, পানিসাগর সহ ঊনকোটি ও উত্তর জেলার বিভিন্ন মহকুমা৷ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে কঠোর নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন৷ গোয়েন্দা পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে৷ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফকে কঠোর নজরদারী চালানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন৷


সপ্তম দিনেও আন্দোলন থেকে পিছপা হাঁটে নি কাঞ্চনপুরের যৌথ কমিটি৷ রবিবারও মহাকুমার বিভিন্ন স্থানে যৌথ কমিটি কর্মীদের আন্দোলন ছিল অব্যাহত৷ ছিল পুলিশের পিকেটিং৷ দোকানপাট ছিল বন্ধ৷ গাড়ি ঘোড়া ছিল বন্ধ৷ পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী ছিল ছয়লাপ৷ এদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই৷ সমস্ত কিছু স্তব্ধ৷ বর্তমানে ধর্মনগর পানিসাগর সহ কাঞ্চনপুর মহাকুমা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে টিএসআর ও পুলিশ বাহিনী৷ নেতৃত্বেরা জানান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকার তাদের দাবি মেনে নিচ্ছে না৷
শনিবার পানিসাগরের ঘটনায় গুরুতর ভাবে আহত হয় দমকল বাহিনীর কর্মী বিশ্বজিৎ দেববর্মা৷ ঘটনার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ধর্মনগর হাসপাতালে৷ সেখান থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷ কিন্তু শনিবার রাতে জিবি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়৷ জানা যায় মৃত বিশ্বজিৎ দেববর্মা দামছড়া ফারার স্টেশনে কর্মরত ছিল৷ শনিবার সে ছুটি নিয়ে দামছড়া ফারার স্টেশন থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে৷

এইদিকে রবিবার মৃত বিশ্বজিৎ দেববর্মার মৃতদেহ রাজধানীর ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনীস্থিত দমকল বাহিনীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে বাহিনীর আধিকারিক সহ সকল কর্মীরা মৃত বিশ্বজিৎ দেববর্মাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়৷ উপস্থিত ছিলেন ডিভিসনাল ফায়ার অফিসার ইনচার্জ তপন কুমার রায়৷ তিনি জানান অগ্ণিনির্বাপণ দপ্তরের সদর দপ্তরে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর মৃত বিশ্বজিৎ দেববর্মার মৃতদেহ তার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ এদিকে, ধলাই জেলার নেপালটিলার ডেমডুম এলাকায় বিশ্বজিৎ দেববর্মার মরদেহ নিয়ে গেলে সেখানে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়৷ তাতে কয়েকজন অল্পবিস্তর আহত হয়েছেন৷ যদিও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়৷


এদিকে, রবিবার সকালে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির সকল সদস্যরা ছুটে আসেন৷ দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ ময়নাতদন্তের পর পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রীকান্ত দাসের মরদেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ তারপর গাড়ি দিয়ে শোক মিছিলের মাধ্যমে কাঞ্চনপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীকান্ত দাসের মরদেহ৷ জানা গেছে কাঞ্চনপুরে নিহত শ্রীকান্ত দাসের মরদেহ নিয়ে গিয়ে সেখানে শোক মিছিল বের করা হয়৷ পাশাপাশি ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, নিহত শ্রীকান্ত দাসের বুকের ডান দিকে গুলি লেগে পেছনের দিকে গিয়ে আটকে ছিলো৷ সেখান থেকে গুলি বের করে ফরেনসিক টেস্টের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ তবে একটি গুলিতেই প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল শ্রীকান্তের৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *