নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ নভেম্বর৷৷ রজ্যের বিভিন্ন স্থানে এক গৃহবধূ ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে অস্বাভাবিক ভাবে৷ এই ঘটনায় রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা প্রশ্ণের মুখে গিয়ে দাঁড়াল৷
উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরের বড়ুয়া কান্দির ৬ নং ওয়ার্ডের শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে৷ তার নাম হীরালাল দাস৷ পেশায় কাঠমিস্ত্রি৷ তার বাড়ি জলে ভাসা এলাকায়৷ বড়ুয়া কান্দিতে শ্বশুর বাড়িতে থাকত ওই ব্যক্তি৷ জানা গেছে ঋণের দায়ে অতিষ্ঠ হয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে৷ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ হীরালাল দাস নামে ওই ব্যক্তি প্রাকৃতিক কাজের জন্য ঘর থেকে বের হয়৷তারপর বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজনদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়৷ তারা খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পাশের জঙ্গলে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান৷ পরিবারের লোকজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন৷ খবর পাঠানো হয় ধর্ম নগর থানায়৷ ধর্ম নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে৷ সেখান থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়৷ময়নাতদন্তের পর মৃত দেহ পরিবারের লোকজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷অভাব অনটনের কারণে কাঠমিস্ত্রি হীরালাল দাস আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷তার মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
বিশালগড় এর কমলা সাগরের গাবতলী এলাকায় এক যুবককে হত্যা করে মৃতদেহটি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে৷ মৃত যুবকের নাম মানিক সরকার৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে৷ সংবাদ সূত্রে জানা গেছে ঝুলন্ত মৃতদেহ টির পা মাটিতে লেগে রয়েছিল৷ তা দেখেই পরিবারের লোকজনদের সন্দেহ তাকে কেউ হত্যা করে মৃতদেহটি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে৷ এ ব্যাপারে বিশালগড় থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ বিশালগড় থানার পুলিশ মৃতদেহটিকে করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে৷ ময়নাতদন্তের পর মৃত দেহ পরিবারের লোকজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷অপর একটি সূত্রে জানা গেছে মৃত মানিক সরকার কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু না হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুলিশ জানিয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে৷
রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ণ অপূর্ব প্রতাপগড় রামকৃষ্ণ পাড়ায় এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে৷ আত্মঘাতী গৃহবধূর নাম মীতা সাহা৷ স্বামীর নাম কিংকর সাহা৷সংবাদ সূত্রে জানা গেছে প্রায় ১২ বছর আগে সামাজিক প্রথা তাদের বিয়ে হয়েছিল৷ তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে৷ পরিবারে কোন ধরনের ঝামেলা ছিল না৷পরিবারে কোনো ধরনের ঝামেলা না থাকা সত্ত্বেও কেন ওই গৃহবধূর আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে৷ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে গতকাল রাতেস্বামী স্ত্রী সহ তারা একই সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন৷ সকালে স্ত্রী আগেই ঘুম থেকে উঠে৷সকাল সাতটা নাগাদ স্বামী কিংবা ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পায়৷ সঙ্গে সঙ্গে সে চিৎকার করে৷ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন৷ খবর পাঠানো হয় আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায়৷ খবর পেয়ে মহিলা থানার পুলিশ ছুটে এসে ঝুলন্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়৷পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু জনিত একটি মামলা গ্রহণ করে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আত্মগোপন করে রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি৷ অবশ্য এ ব্যাপারে মৃতার বাপের বাড়ি তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়নি৷
মোহনপুরের কালাছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নলগড়িয়া প্রায় আড়াই বছরের এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ পারির কিছুদূরে পরিত্যেক্ত জলাশয় থেকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের সংবাদে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ সংবাদ সূত্রে জানা গেছে শিশুটি গত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিল৷ শিশুটির মা বাবা এবং আত্মীয়-পরিজন রা গত কয়েকদিন ধরে শিশুকে খুঁজছিল৷ কিন্তু শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না৷এ ব্যাপারে থানায় সংক্রান্ত একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল৷ অবশেষে পরিত্যক্ত একটি জলাশয় থেকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷নিখোঁজ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷ এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন৷পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে৷ঘটনার তদন্ত ক্রমে আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য স্থানীয় জনগণ পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন৷

