বনকে নির্ভর করে জনজাতি অংশের মানুষের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ নভেম্বর৷৷ দেশ বিদেশের প্রক’তিপ্রেমী পর্যটকদের আরও বেশী আক’ষ্ট করতে ত’ষ্ণা অভয়ারন্যকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে৷ এইলক্ষ্যে ত’ষ্ণা অভয়ারন্যে চশমাবানর পয়েন্ট স্থাপন, লগ হাট স্থাপন এবং লেইকে বোটিং -এর ব্যবস্থা করার জন্য বনদপ্তরকে পরিকল্পনা গ্রহন করে কাজ করতে হবে৷ আজ সচিবালয়ের ভিডিও কনফারেন্স হলে অনলাইনের মাধ্যমে রাজ্য বন্যপ্রাণী পর্ষদের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার বন ও বন্যপ্রাণীকে কেন্দ্র করে যেসব ক্ষেত্র থেকে আয়ের সুুযোগ রয়েছে সেগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বনদপ্তরকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে হবে৷ রাজ্যের জনজাতিদের জীবনধারনের ক্ষেত্রে বনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে৷ বনকে নির্ভর করে জনজাতি অংশের মানুষের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে৷ এক্ষেত্রে বনধন যোজনার বিভিন্ন প্রকল্পগুলি রূপায়নের মাধ্যমে জনজাতি অংশের মানুষের আরও বেশী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে দপ্তরকে৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বনকে ধংসের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে জনজাতি সমাজের সমাজপতিদেরও বিশেষ দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন৷ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের বনা’লকে ঐ এলাকার নামে নামকরণ করতে দপ্তরকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এরফলে বনা’লটিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ আরও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব নেবে বলে মুখ্যমন্ত্রী সভায় অভিমত ব্যক্ত করেন৷ এছাড়াও যারা অবৈধভাবে বনের গাছ কেটে আয় করছে তা বন্ধ করতে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করার জন্যও বন দপ্তরকে পরিকল্পনা নিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

সভায় প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক ডি কে শর্মা স্টেট ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ডের সর্বশেষ সভার গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত অনুসারে কমন বার্ডউইং প্রজাতিকে রাজ্যিক প্রজাপতি ঘোষনা করা হয়েছে৷ এবছরের ফেবয়ারী মাসে দুইদিনব্যাপী হর্ণবিল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, ত’ষ্ণা অভয়ারন্যের অধীন বড়পাথড়ি এবং নিদয়া বন এলাকায় ২টি ৩৩ কেভি পাওয়ার সাবস্টেশন স্থাপনের জন্য ন্যাশনাল ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ড থেকে অনুমতিপত্র আনা হয়েছে৷ এছাড়াও পতিছড়িতে ইণ্ডিয়ান বাইসন কনজারভেশন পার্ক নির্মানের জন্য জায়গা চিহ্ণিত করা হয়েছে৷


সভায় প্রধান মুখ্য বনসংরক্ষক আরোও জানান, বনদপ্তর মুঙ্গিয়াকামীতে ভালচার কনজারভেশন বীডিং প্রোগ্রাম কর্মসূচি হাতে নিয়েছে৷ ১০ বছরের জন্য এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে৷ এই প্রকল্পের জন্য প্রতিবছরে ১ কোটি টাকা করে ১০ বছরে মোট ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে৷ এই প্রকল্পে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫১ লক্ষ টাকা ম’র করেছে৷ তিনি আরোও জানান,মুঙ্গিয়াকামীতে হাতির উৎপাত রোধ করার লক্ষ্যে একটি এলিফ্যান্ট অ্যান্টি ডিপরেডেশান ক্যাম্প স্থাপন করা হবে৷ এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ক’ষকদের ক্যাম্পা (সিএএমপিএ) ফাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বনদপ্তরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেন৷


প্রধান মুখ্য বনসংরক্ষক সভায় আরোও জানান, রাজ্যের ইকো-টু্যারিজমের উন্নয়নের লক্ষ্যে লগ হাট ও ন্যাচার লার্নিং সেন্টার নির্মাণ, ব্যাটারী চালিত বাহন চালু সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ইকো-টু্যারিজমের উন্নয়ন ও প্রচারের উপর বন দপ্তরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে৷এইলক্ষ্যে বন দপ্তরের তৈরি ভালচার পয়েন্ট,বাইসন পয়েন্ট,বাটারফ্লাই পয়েন্ট ইত্যাদি বিষয়কে নিয়ে ডিজিট্যাল বোর্ড এবং ভিডিও তৈরি করে প্রচারে নিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷


রাজ্য বন্যপ্রাণী পর্ষদের পর্যালোচনা সভায় বনমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া,বন দপ্তরের প্রধান সচিব বরুণ কুমার সাহু,মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব জে কে সিনহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের ৮টি জেলার বন্যপ্রাণী পর্ষদের চেয়ারপার্সন,ভাইস-চেয়ারপার্সন এবং সদস্যগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন৷