আগরতলা, ৬ নভেম্বর (হি.স.)৷৷ বাঁশ দিয়ে প্রদীপ তৈরি হয়েছে ত্রিপুরায়৷ আজ স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর তৈরি ওই প্রদীপ বাজারজাতকরণের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ অভিনব ওই আবিষ্কার দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি৷ ওই সৃষ্টির জন্য স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, আজ সত্যিকার অর্থেই প্রধানমন্ত্রীর ভোকাল ফর লোকাল স্লোগান সফলতা অর্জন করেছে৷ তাই তিনি চাইছেন, আলোর উৎসব দীপাবলিতে পরিবেশ বান্ধব এই প্রদীপ আলোকিত করুক সমগ্র ত্রিপুরাকে৷
সিপাহিজলার নলছড় এলাকায় স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী বাঁশ দিয়ে প্রদীপ তৈরি করেছে৷ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত ওই স্ব-সহায়ক দল বিভিন্ন আকৃতির প্রদীপ তৈরি করে রীতিমতো চমক দিয়েছে৷ ওই প্রদীপের কলা-কৌশলী এতটাই আকর্ষণীয় যে ক্রেতাদের টানতে অসুবিধা হবে না বলে মনে করা হচ্ছে৷ ওই স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর জনৈক সদস্যা জানিয়েছেন, বাঁশের উপর বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি করা হয়েছে৷ তার ভেতরে মোম দিয়ে সলতে রাখা হয়েছে৷ ওই মোম গলে গেলেও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য থাকবে প্রদীপটি৷ তিনি বলেন, ৬০ টাকা থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত দর নির্ধারিত করা হয়েছে একেকটি মোমবাতির৷ যেমন আকার সেই অনুপাতেই দাম নির্ধারিত হয়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনে আমরা সক্ষম৷
এদিন সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে বাঁশের প্রদীপ বাজারজাতকরণের সূচনা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশবান্ধব প্রদীপ তৈরি করেছেন৷ সারা রাজ্যে ওই প্রদীপ ব্যবহৃত হবে৷ ওই প্রদীপ তৈরিতে স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহ দেওয়া এবং অর্থনৈতিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে ত্রিপুরা সরকার৷
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাঁশের প্রতি আরও বেশি নজর দিতে বলেছেন৷ তাই বাঁশকে বনজ সম্পদের তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে এখন বাঁশ বিক্রির জন্য বন দফতরের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা নেই৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ব্যাম্বো মিশনের নজরদারি রাখছেন৷
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ বান্ধব হিসেবে বাঁশ একটি ব্যতিক্রমী উপাদান৷ কারণ, খুব অল্প সময়ে বাঁশ পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে৷ সেই বাঁশ কেটে ব্যবহারের পর পুনরায় বাঁশ উৎপন্ন হয়ে যায়৷ তাতে বাঁশ দিয়ে শিল্প স্থাপন যথেষ্ট লাভজনক বলে দাবি করেন তিনি৷
তাঁর আরও দাবি, ত্রিপুরায় বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার গঠন হওয়ার পর স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলি দারুণভাবে উন্নতি করতে শুরু করেছে৷ কারণ, লাভজনক প্রমাণিত না হলে বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে প্রত্যেকেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে৷ তাতে স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে৷ তাঁর কথায়, বাঁশের মোমবাতি বিকল্প পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে৷ তেমনি, স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর উন্নতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে কর্মসংস্থান বাড়বে৷
এদিকে, আজ মুখ্যমন্ত্রীকে আঁখের তৈরি গুড় উপহার দিযেছে একটি স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী৷ এছাড়া ত্রিপুরায় তৈরি জ্যাম মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয়েছে৷ তিনি ওই পণ্যগুলি বাজারজাতকরণে বাঁশের প্যাকেট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন৷ এদিন তিনি বলেন, বাঁশ দিয়ে জলের বোতল, বিসুকট, চাল তৈরি হয়েছে৷ এখন মোমবাতিও তৈরি হয়ে গেছে৷ আগামীদিনে বাঁশ দিয়ে আরও অভিনব পণ্যের আবিষ্কার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন৷ তাতে তিনি নিশ্চিত, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে৷