নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ আগস্ট ৷৷ করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধির আদ্যশ্রাদ্ধ করল সিপিএম৷ ১৬ দফা দাবি আদায়ের নামে হাজার হাজার মানুষকে অনিশ্চিত ঝুকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার আজ রাজনীতির প্রশ্ণে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷ কারণ, গান্ধিঘাট-এ কয়েকশ মানুষ জড়ো করে দীর্ঘ সময় ভাষণ দিয়ে মানিক সরকার এবং সিপিএম দাবি কতটা আদায় করতে পেরেছেন তাতে সন্দেহ রয়েছে৷ কিন্ত, করোনা-র বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা ভুল হবে না৷ অবশ্য, করোনা স্বাস্থ্যবিধি ফুতারে উড়িয়ে দিয়ে মানুষের প্রাণ সংশয়ে ফেলার জন্য সিপিএম নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, তা আন্দাজ করা যাচ্ছে না৷ কারণ, পুলিশ আজ রীতিমত সিপিএমের অন্যায় আবদারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলেই মনে হয়েছে৷ বিরোধী দলনেতা সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করার কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই জনরোষের মুখে পরে সকলকেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ৷ ফলে, মানিক সরকার ও সিপিএম নেতারা মুক্তি পেয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে বীরদর্পে আস্তানায় ফিরে গেছেন৷ শুধু তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চোখে-মুখে বিদ্রুপের হাসি ফুটে উঠতে দেখা গেছে৷
করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার যুদ্ধকালীন তৎপড়তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু তারপরেও দেশের মত রাজ্যেও এই ভাইরাস দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে৷ করোনা সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তাতে রাজ্য ও কেন্দ্র কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে৷ কেন্দ্রের নির্দেশিকা রাজ্য প্রয়োগ করছে৷ এই অবস্থায় কিছু কিছু সংগঠন এই নির্দেশিকা না মেনে বেপরোয়া হয়ে আইন ভাঙ্গার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ এই ধরনের প্রবণতা কার স্বার্থে৷ সংসদীয় রাজনীতিতে তাদের কোন ভূমিকা নেই৷ কিন্তু ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে৷ বুধবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই মন্তব্য করেন মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য৷
তিনি আরো বলেন যে দেশ থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে সেই দেশের প্রতি সিপিএম এর দায়বদ্ধতা আছে৷ কিন্তু রাজ্যের মানুষের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই তাদের৷ বারং বার তা প্রমানিত হচ্ছে৷ ১৪৪ ধারা অমান্য করে তারা সংগঠিত হচ্ছেন৷ ভীড় করছেন৷ রাজ্যের বেশ কিছু স্থানে এই কান্ড ঘটাচ্ছেন৷ আইন ভাঙ্গার জন্য দলীয় কর্মীদের উৎসাহীত করছেন বিরোধী দলনেতা৷ এই রাজনীতি মানূষের স্বার্থে হতে পারে না৷ মানুষকে বাঁচতে দিতে হবে৷ এটা না করে রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালাচ্ছে৷ আক্রান্ত হচ্ছে বিজেপি-র কার্যকর্তারা৷ প্রাক্তন এম ডি সি-র নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি-র মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য৷ এই বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ ৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন৷ গোমতী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি৷ দলের পক্ষ থেকে কার্যকরতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে করে কোন ধরনের রাজনৈতিক প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেন৷
বিরোধী দলের দায়িত্ব থেকে সরে এসে সিপিএম বার বার অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে৷ অস্থীরতা আরো বাড়ানোর চেষ্টা এই পরিস্থিতিতে চালাচ্ছে সিপিএম৷ সংখ্যা কমলেও তাদের উদ্দেশ্য থেকে তারা সরে আসেনি বলে জানান মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য৷ ভাইরাস ছাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা না নিয়ে মানুষকে বাঁচানোর বার্তা দেন তিনি৷ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি৷ হিংসাকে জিগির দেওয়ার জন্য এই কাজ করে যাচ্ছে সিপিএম বলে জানান তিনি৷ মানুষ সব দেখছে৷ তারা সময়ে এই দায়িত্ব ছিনিয়ে নেবে তাদের কাছ থেকে বলে জানান মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য৷ সিপিএম দল সর্ব ভারতীয় কর্মসূচীর অঙ্গ হিসাবে রাজ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ করে৷ কিন্তু তাঁর পূর্ব থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে এই কর্মসূচী বাঞ্চাল করতে বিজেপি ভূমিকা নিচ্ছে৷ এটা কতটা মিথ্যা এদিনের ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট৷ বাঞ্চাল করার চেষ্টা থাকলে তারা কর্মসূচী করতে পারত না৷ ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক দল পুরনো কায়দায় বিভ্রান্তী সৃষ্টি করে অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে বলে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে কটাক্ষ করেন বিজেপি-র মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী৷
প্রসঙ্গত, ১৬ দফা দাবিতে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির আহবানে দেশব্যাপী চলছে আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচী৷ একই সঙ্গে চলছে মিছিল, মিটিং৷ বুধবার এই ১৬ দফা দারির সমর্থনে চলা আন্দোলনের ছিল শেষ দিন৷ এদিন রাজ্যের অন্যান্য মহকুমার ন্যায় রাজধানীর প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় গলায় প্ল্যাকার্ড ও পতাকা হাতে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম নেতা কর্মীরা৷ এছাড়া কিছু মিছিল করে সিপিএম কর্মী ও নেতারা৷ বর্তমানে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়ে চলেছে৷ এই ক্ষেত্রে প্রায় প্রতিদিন পশ্চিম জেলায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সবচাইতে বেশী৷ শুধূ তাই নয় মৃত্যুর হারেও পশ্চিম জেলা বর্তমানে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার৷ এই ক্ষেত্রে এদিনের সিপিএম এর ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে প্রস্ন উঠেছে৷ এদিনের কর্মসূচীতে অংশ নেন বিরোধীদলনেতা মানিক সরকার, বিধায়ক বাদল চৌধুরী সহ একাধিক নেতৃত্ব৷ এদিন ১৬ দফা দাবির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ রাজ্যের সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করে দলীয় কর্মীদের অংশ গ্রহণকে অভিনন্দন জানান তিনি৷ এই দাবি রাজনৈতিক দাবি নয়৷ বেঁচে থাকার দাবি বলে জানান বিরোধী দলনেতা৷ পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়৷ এই দাবি সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকদের জন্য৷ সঙ্কীর্ণতার উর্ধে উঠে গুরুত্বপূর্ণ জরুরী দাবির সমর্থনে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷

