রাজ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকির দিকে এগিয়ে চলেছে করোনা

আগরতলা, ২৪ আগস্ট (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরায় করোনায় মৃত্যুর সবর্োচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি ছুঁয়েছে৷ আজ সোমবার রাজ্যে করোনা আক্রান্ত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ এ নিয়ে ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ইতিপূর্বে একদিনে সবর্োচ্চ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছিল৷


প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত ৮,৯২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৬,৪১৪ জন সুস্থ হয়েছেন৷ এখনও সক্রিয় করোনা আক্রান্ত রয়েছেন ২,৪০৭ জন৷ এদিকে এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় ২,৪৫,৫৮৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে ২,৪৪,৫৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে৷ স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে দেখা গেছে, বর্তমানে ত্রিপুরায় করোনা সংক্রমণের হার ৩.৬৫ শতাংশ৷ তেমনি রোগ-মুক্তির হার ৭২.০৫ শতাংশ৷ মৃতের হার ০.৮৮ শতাংশ এবং প্রতি এক লক্ষে পরীক্ষা হয়েছে ৬১,১৭৫ জনের৷

ত্রিপুরায় সম্প্রতি মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে৷ করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে৷ ফলে মৃতের সংখ্যা ৭৮-এ পৌছেছে৷ এদিকে, আজ ৭৩ জন করোনা মুক্ত হয়ে ছুটি পেয়েছেন৷
এদিকে, করোনা-য় সর্বোচচ্চ ঝুঁকির দিকে এগিয়ে চলেছে ত্রিপুরা৷ এখনই মানুষ সতর্ক না হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে৷ আজ সোমবার আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে কাউন্সিল হল-এ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানালেন স্টেট লেভেল কোভিড কোর কমিটির সদস্যরা৷ কমিটির তিন সদস্যের দাবি, সবর্োচ্চ হারে নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের সন্ধানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে৷ নয়তো, অক্টোবরে করোনা-র প্রকোপ ভয়ঙ্কর রূপ নেবে৷ সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সাধ্যের মধ্যে থাকবে না৷


করোনা-প্রকোপের লাগামহীন বৃদ্ধি ত্রিপুরাকে নতুনভাবে দুঃশ্চিন্তায় ফেলেছে৷ ফলে, আজ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন৷ সাথে ভবিষ্যত কর্মপদ্ধতি স্থির করেছেন তিনি৷ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কোর কমিটির সদস্য প্রফেসর ড় সুব্রত বৈদ্য বলেন, অন্য জটিল রোগে আক্রান্তরা করোনায় মারা যাচ্ছেন৷ তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় দ্রুতগতিতে করোনা-র প্রকোপ বেড়ে চলেছে৷ তাঁর কথায়, করোনা আক্রান্তের নমুনা পরীক্ষায় টালবাহানা এবং হাসপাতালে যাওয়ার ভীতি মৃত্যুর জন্য অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷


এদিন কোর কমিটির অপর সদস্য মাইক্রো বায়োলজিস্ট ড় তপন মজুমদার বলেন, ত্রিপুরায় গত ১ সপ্তাহে সংক্রমিতের হার ৯-১০ শতাংশ৷ কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সংক্রমিতের হার ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা খুবই জরুরি৷ তিনি গভীর চিন্তা প্রকাশ করে বলেন, সংক্রমিতের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে৷ সাথে তিনি বলেন, অক্টোবরের মধ্যে সংক্রমণ না কমলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সাধ্যের বাইরে চলে যাবে৷

তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনা মোকাবিলায় মানুষ সহযোগিতা করছেন না৷ সংক্রমণ চেপে রাখায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷ তাঁর দাবি, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় মানুষ মোটেও সহযোগিতা করেননি৷ কারণ, ওই সমীক্ষার পরও এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে৷ তাঁর কথায়, সারা দেশে ৩২ দিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে৷ সেই তুলনায় ত্রিপুরায় ৩১.৫ দিনে করোনা আক্রান্ত দ্বিগুণ হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, প্রতিদিন ত্রিপুরায় ৩.৩ শতাংশ হারে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে৷ এতে অক্টোবরে সংক্রমণ সবর্োচ্চ মাত্রায় পৌঁছবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ত্রিপুরা সরকার আরও বেশি নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ড় তপন মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রিপুরায় নমুনা পরীক্ষার হার বাড়ানো হবে৷ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত আক্রান্তদের খুঁজে বের করতে হবে৷ সে-ক্ষেত্রে ১৫ সেপ্ঢেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ত্রিপুরায় অ্যান্টিবডি টেস্টের তোড়জোড় চলছে৷ তাঁর মতে, করোনা-র টিকা সহজে মিলবে না৷ উচ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্নদের খুঁজে বের করতে হবে৷ কারণ, ত্রিপুরায় প্লাজমা থ্যারাপির পরিকল্পনা চলছে৷ এদিন তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশে করোনা-র বিদায়বেলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রকোপ বাড়ছে৷ সে-ক্ষেত্রে দুগর্োৎসব কীভাবে পালন করা হবে সে-বিষয়ে ভাবতে হবে৷ প্রয়োজনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন নির্দেশিকা জারি করতে হবে সরকারকে৷
এদিকে, করোনা-র চিকিৎসায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে৷ হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যার ব্যবস্থা এবং অক্সিজেনের ঘাটতি মেটানো হয়েছে৷ ড় রাজেশ দেববর্মা বলেন, শুধুমাত্র করোনায় জটিল রোগীদের চিকিৎসা হবে জিবি হাসপাতালে৷ বাকি লক্ষণহীন, সামান্য আক্রান্তদের ভগৎ সিং এবং হাঁপানিয়া মেলা প্রাঙ্গণে কোভিড কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসা হবে৷ সেখানেও অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকবে৷