নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ জুলাই৷৷ কোভিড ১৯ মোকাবিলায় আগামী তিন মাস রাজ্যের চিত্র কেমন হবে তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে৷ এই লক্ষ্যে সোমবার থেকে বুধবার তিনদিন বাড়ি বাড়ি চলবে পর্যবেক্ষণ৷ তাই এই তিন দিন সবাইকে বাড়িতে থাকা অত্যন্ত জরুরী৷ এই লক্ষ্যেই সোমবার ভোর ৫ টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টা পর্যন্ত তিনদিন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷
শনিবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে আছি, যখন ত্রিপুরায় পজেটিভ কেস এর সংখ্যা বেড়ে গেছে৷ বহি:রাজ্য থেকে আটকে পরা নাগরীকরা রাজ্যে ফিরে আসার পরই এই সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি৷
এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১১ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই আগের থেকে নানান শারীরিক সমস্যা ছিল৷ প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি৷
এদিনের ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ১৫০০ এর উপরে কোভিড ১৯ পজিটিভ কেইস সক্রিয় রয়েছে৷ ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলোতে সঠিক নিয়মানুবর্তিতা পালনের জন্যই, করোনা মহামারীতে ত্রিপুরা অনেকাংশেই নিরাপদ স্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এজন্য তিনি রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদও জানান৷
কোভিড ১৯ এর নমুনা পরীক্ষায় প্রতি মিলিয়ন পরিসংখ্যানে ত্রিপুরা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কোভিড ১৯ সেন্টার গুলিতে ২০০০ এর উপর শয্যা রয়েছে৷ ৮৬ টি ভেন্টিলেটর, আইসিও এর পাশাপাশি রয়েছে ৭২ হাজারের কাছাকাছি পিপিই কীট৷ রাজ্যের সমস্ত হাসপাতাল গুলিতে মজুত আছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা৷
সোমবার থেকে অঙ্গনওয়াডড়ি কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি পর্যবেক্ষণে বের হবেন৷ কারোর মধ্যে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ পাওয়া গেলে তাদের এন্টিজেন টেস্ট করা হবে৷ একই সাথে ল্যাবে আগের মতোই লালা রস পরীক্ষাও জারি থাকবে৷ এজন্য বাড়ি বাড়ি এন্টিজেন পরীক্ষার কাজে যুক্ত কর্মীদের এককালীন এক হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

