নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ২৫ জুলাই৷৷ তথ্য প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও ত্রিপুরায় ধৃত ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত নেয়নি বিজিবি৷ তাই তাদের ত্রিপুরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ৷ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় পাসপোর্ট অ্যাক্ট-এ মামলা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে৷ গত ১১ জুলাই থেকে তাদের নিয়ে মিঞাপাড়ায় বিএসএফ ও বিজিবি-র মধ্যে টালবাহানা চলছিল৷
প্রসঙ্গত, সীমান্ত এলাকায় ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে বিজিবি এবং বিএসএফ-এর মধ্যে একপ্রস্ত ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ তাতেও কোনও সমাধান হয়নি৷ বিজিবি-র তরফ থেকে বলা হচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ড আটক নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিক নন৷ তাই তারা কোনও ভাবেই তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেবে না৷ অন্যদিকে বিএসএফ-এর দাবি, ধৃত ১২ জন প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক৷ ধৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফ ওই সব প্রমাণ পেয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, বিএসএফ-এর তরফ থেকে সমস্ত তথ্যাবলি সহ অডিও এবং ভিডিও ক্লিপিংসও বিজিবিকে দেওয়া হয়েছে৷
তা সত্ত্বেও বিজিবি কেন ওই ১২ জনকে তাদের দেশে ফিরে যেতে দিচ্ছে না এ নিয়ে বিএসএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ বিএসএফ-এর ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন৷ তিনি জানান, গত ১১ জুলাই মধুপুর থানাধীন কমলাসাগরের মিঞাপাড়া সীমান্ত এলাকায় ওই ১২ জনকে বিএসএফ জওয়ানরা আটক করেন৷ আটককৃত ১২ জনের মধ্যে একজন পুরুষ, চারজন মহিলা এবং সাত শিশু রয়েছে৷ তাদের প্রত্যেকের বাড়ি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার হরিকোলা গ্রামে৷ তিনি জানান, কুলসুম বিবি (৬০), বার্শিদা বেগম (৩৫), রাজিতা বেগম (৩০), মহিন উদ্দিন (২২), সাজানা বেগম (২১), সাকিল মিয়াঁ (১৪), রবিনা খাতুন (১২), সাকিব (১১), রাজা হুসেন (৯), রেশমি আখতার (৪), আলিয়া খাতুন (৩) এবং রাজাউল হুসেন(২)-এর বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচিতি মিলেছে৷ আটককৃতদের গত ১৪ দিন যাবৎ বিএসএফ এবং গ্রামবাসীর তরফ থেকে খাদ্য সামগ্রী সহ আনুসঙ্গিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে৷
আজ শনিবার সিপাহিজলার পুলিশ সুপার কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিএসএফ ওই ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে৷ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় পাসপোর্ট অ্যাক্ট-এ মামলা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে৷

