অনলাইন ক্লাস : মেয়েকে মোবাইল কিনে দিতে না পেরে আত্মঘাতী বাবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ১ জুলাই৷৷ মোবাইলের চাহিদা মেটাতে না পেরে ফাঁসিতে আত্মঘাতি পিতা৷ বাড়িতে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে বাবার কাছে আবদার এন্ড্রয়েড মোবাইল লাগবে৷ অনলাইনে ক্লাস করার জন্য এন্ড্রয়েড মোবাইল একান্ত প্রয়োজন৷ কিন্তু নিত্য অভাবের সংসার৷ দুই মেয়ে,এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন সুকুমার ভৌমিক (৫০)৷ বাড়ি বিশালগড় মহাকুমা মধুপুর থানাধীন পুরাথল রাজনগর কলোনি এলাকায়৷



 পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ে৷ অনেকদিন ধরেই বাবার ওপর প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে দশম শ্রেণীর ছাত্রী৷ অনলাইনে ক্লাস করতে অতিসত্বর এন্ড্রয়েড মোবাইল চাই৷ নিত্য অভাবের সংসারে লকডাউন এর ফলে দিনমজুর বাবা সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তার ওপর আবার মেয়ের এন্ড্রয়েড মোবাইলের চাহিদা৷ অনেক কষ্ট করে কোন রকমে দিনমজুর বাবা একটা সাধারন মানের মোবাইল কিনে দিয়েছেন মেয়েকে৷ আর তাতেই মেয়ের রাগ৷ মা ও মেয়ে মিলে বাবার সঙ্গে শুরু হয় ঝগড়া৷ প্রচন্ড রাগ ক্রোধ অভিমানে বাবা কিনে আনা নতুন মোবাইল সেট টি সবার সামনেই আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন৷ মোবাইলটা ভেঙ্গে ফেলার পর থেকেই কারো সাথে কোন কথাবার্তা বলেননি৷



পরিবারের লোকজন ও অভিমানে কোন কথা বলেননি৷গতকাল রাতের বেলায় নিজের বসত করে না ঘুমিয়ে একা একা ভাঙ্গা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন৷ পারিবারিক অশান্তি তো চলছিলই৷ কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই৷ দিনমজুর বাবা কোথায় থেকে কিনে আনবে এন্ড্রয়েড মোবাইল৷ অবশেষে পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মঘাতী হয়ে চিরতরে বিদায় নেয় হতভাগা বাবা৷ বুধবার সকাল ছয়টার দিকে মধুপুর থানায় ফোন করে জানানো হয় এই দিনমজুরের আত্মঘাতীর খবর৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখেন বাড়িতেই একটি ভাঙ্গাচুরা ঘরে ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে হতভাগা পিতা৷ সেখান থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতালে৷ হতভাগা বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সমগ্র এলাকা জুড়ে৷