বিদ্যুৎ থাকে না, নেই পুলিশি টহল নিশিকুটুম্বের হানায় অতিষ্ঠ জনগণের পথ অবরোধ বিলোনীয়ায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনীয়া, ২২ জুন৷৷ রাতে বিদ্যুৎ থাকে না, এরই সুযোগে নিশিকুটুম্বদের হানায় জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে৷ তাই, সোমবার ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার মনুরমুখ এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা আজ সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করেন৷ পুলিশ এবং বিদ্যুৎ দফতরের কাজকর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা পথ অবরোধে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ জনতা৷ এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিলোনিয়ার মনুরমুখ এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে চোরের দল হানা দিচ্ছে৷ মনুরমুখ সহ পার্শবর্তী এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল৷ রাত বারোটার পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না৷ রাতে পুলিশি টহলেরও কোনও ব্যবস্থা নেই৷ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরের দল ব্যাপকভাবে চুরির ঘটনা সংগঠিত করে চলেছে৷ পুলিশ এবং বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ জানিয়েও এলাকার জনগণ কোনও ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা৷


স্থানীয়দের দাবি, রবিবার রাতেও মনুরমুখ এলাকা থেকে চারটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল৷ পর পর চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার সকাল থেকে ক্ষুব্ধ জনতা মনুরমুখে পথ অবরোধ করেন৷ দুই ঘণ্টার বেশি সময় পথ অবরোধ চলতে থাকে৷ অবরোধের ফলে রাস্তার দু-পাশে ব্যাপক সংখ্যায় যানবাহন আটকে পড়েছিল৷ তাতে যাত্রী দুভর্োগ চরম আকার ধারণ করে৷ অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরোধস্থলে ছুটে যান৷ পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় শামিল হন৷


এদিন স্থানীয় জনগণ পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে নালিশ জানিয়ে বলেন, এলাকায় রাত্রিকালীন পুলিশি টহল দেওয়ার জন্য বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কার্যকরী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি৷ শুধু তা-ই নয়, রাত বারোটার পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ নিগমের কর্মকর্তাদের বারবার অবগত করা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ দফতরের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি৷ ফলে চুরি বেড়েছে৷ এরই প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার সকাল থেকে পথ অবরোধের শামিল হন, জানিয়েছেন এলাকাবাসী৷

এদিন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা৷ ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন স্থানীয় জনগণ৷ তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা৷