সাজার হার বাড়লেই অপরাধ কমবে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুন৷৷ সাজার হার বাড়লেই অপরাধ কমবে৷ তাই, ত্রিপুরায় প্রকৃত অপরাধীদের সাজার হার আরও বৃদ্ধির জন্য নজর দিতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ আজ সোমবার মহাকরণের ১ নম্বর কনফারেন্স হল-এ আয়োজিত আইন ও সংসদীয় দফতরের পর্যালোচনা সভায় তিনি আইন ও সংসদীয় দফতরের বিভিন্ন বিষয়ের পর্যালোচনা করে বলেন, সাজার হার যত বৃদ্ধি পাবে তত অপরাধের হারও কমবে৷ তাই পুলিশ প্রশাসনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে৷


তাঁর কথায়, অপরাধীদের শুধু গ্রেফতার নয়, কীভাবে দ্রুত চার্জশিট প্রদান করে সাজার ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে৷ তবেই সমাজে আইন-শৃঙ্খলার বাস্তবায়ন আরও সহজতর হবে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে৷ তাঁর দাবি, পুলিশকে প্রতিটি মামলার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন৷ কারণ, কাস্টোডিয়ান ট্রায়াল যত বেশি হবে ততই অপরাধ কমবে৷ তিনি গত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯-এর নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের ৮টি জেলার অপরাধের শাস্তি প্রদানের হার পর্যালোচনা করে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের হার আরও বাড়াতে হবে৷ পুলিশ বা জেল হেফাজতে যাতে কোনও অপরাধীর মৃত্যু না হয় সে বিষয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে৷


ত্রিপুরায় আইন- শৃঙ্খলার যথাযথ বাস্তবায়নে মুখ্যমন্ত্রী দেব রাজ্যের সকল স্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন৷ এদিন বৈঠকে আলোচনার সূচনা করেন আইন দফতরের সচিব বিশ্বজিৎ পালিত৷ তিনি বৈঠকে গত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯-এর নভেম্বর পর্যন্ত ৮ জেলার অপরাধীদের সাজার হার তুলে ধরেন৷ তাঁর কথায়, ধলাই, খোয়াই ও পশ্চিম জেলায় ৩টি জেলা ও দায়রা জজ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে৷ গত ২০১৯ সালে ৩৪টি লোক আদালতে ৩৩,৭০২টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে৷ আইনি সচেতনতা শিবির করা হয়েছে ৩৫০টি৷ বিনামূল্যে আইনি সেবা পেয়েছেন ১,৮০১ জন৷

এছাড়া জিরানিয়া, মোহনপুর, পানিসাগর, কুমারঘাট, জম্পুইজলা, করবুক, শান্তিরবাজার এবং তেলিয়ামুড়া ৮টি সাবডিভিশনাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দফতরের সচিব অপূর্ব রায়, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের বিশেষ সচিব পি কে গোয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷