নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারি৷৷ ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমা-সহ আনন্দবাজারে বাঙালিদের উপর হামলার প্রতিকার চেয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকপত্র প্রদান করেছে সারা বাঙালি ছাত্র সংস্থা৷ গত ১০ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির ডাকা বনধে ওই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে সংগঠন অভিযোগ করেছে৷
সংগঠনের তরফে এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আজ সারা বাঙালি ছাত্র সংস্থার (এবসো) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চন্দন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দফতরে ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমা-সহ আনন্দবাজারে সংগঠিত বাঙালি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজনের ওপর আক্রমণ, তাঁদের ঘরবাড়ি, দোকানে লুটপাট, অগ্ণিসংযোগ, শারীরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এক স্মারকপত্র প্রদান করা হয়েছে৷
স্মারকপত্রে ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি এগেইনস্ট সিএএ কর্তৃক আহূত ৫০ ঘণ্টা বনধকে কেন্দ্র করে যে অগ্ণিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, সেই সাথে খোদ কাঞ্চনপুর মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে যে তাণ্ডব ওই কমিটির নেতৃত্বে জনসাধারণ দেখতে পেয়েছিলেন তার বর্ণনা করা হয়েছে৷ সংগঠনের দাবি, ওই কমিটির দ্বারা আহূত বনধে পথচলতি নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে শারীরিক নিগ্রহ থেকে শুরু করে এলাকার সরকারি বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অগ্ণিসংযোগ, লুটপাট চালানো হয়েছে, তা একপ্রকার বাঙালি বিরোধী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এলাকার সহজ সরল বাঙালি তথা নানা জাতি উপজাতিদের মধ্যে বিভেদের বিষ ছড়িয়ে দিয়ে জয়েন্ট মুভমেন্টের নেতাগণ ও বিভিন্ন সংগঠন তাদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নামে৷ অথচ কাঞ্চনপুর মহকুমা সিএএ-র আওতার বাইরে, এখানে ওই আইন লাগু হচ্ছে না, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই তা ঘোষণা করেছে৷
সংগঠনের আরও দাবি, জয়েন্ট মুভমেন্টের বনধে তাদের কর্মীরা এখানেই থেমে থাকেনি৷ তারা আনন্দবাজারে বাঙালি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, গাড়ি সব কিছু আক্রমণ করে তছনছ করে দিয়েছে৷ সাধারণ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি সম্প্রদায়ের জনগণের ওপর শারীরিক আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে৷ শিশু থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধরাও তাদের অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাননি৷ সংগঠন অভিযোগ করেছে, ওই এলাকায় ৯৩টি পরিবারের ঘর-বাড়ি, দোকান ভাঙচুর করে সব দামি জিনিসপত্র সোনা গয়না লুটপাট করে নিয়ে গেছে মিজোরাম থেকে আগত রিয়াং শরণার্থীদের একাংশ৷ আর তাঁদের মদত দিয়েছে জয়েন্ট মুভমেন্টের বিভিন্ন সংগঠন ও নেতাগণ৷
সারা বাঙালি ছাত্র সংস্থা স্মারকপত্রে আক্ষেপ করে বলেছে, আজ ৭০ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও এক জনের বিরুদ্ধেও ত্রিপুরা সরকারের পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ কাউকে গ্রেফতার করেনি৷ ত্রিপুরায় আইনের শাসন আজ ভুলুণ্ঠিত৷ সংগঠনের দাবি, আজ আন্দবাজারের ৯৩টা পরিবারের প্রায় ৪০০ জন শিশু, মহিলা, পুরুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আনন্দবাজার পুলিশ থানায় উদ্বাস্তু জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছেন৷ সংগঠনের সাফ কথা, এই অবস্থা মেনে নেওয়া হবে না৷ তাই, ১১ দফা দাবি পূরণের অনুরোধ জানাচ্ছি৷

