১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষক মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ মার্চ, রাজ্য সরকারকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ ফেব্রুয়ারী৷৷ ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পক্ষে দায়ের স্পেশাল লিভ পিটিশন সুপ্রিমকোর্টে আগামী ১৬ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে৷ ওইদিন মামলাটি গ্রহণ করার ওপর সম্ভবত চূড়ান্ত শুনানি হবে৷ তাই, ত্রিপুরা সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ বিচারপতি ইউইউ ললিত এবং বিচারপতি বিনীত শরণের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে৷


২০১৪ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্ট ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছিল৷ এর পর থেকে সুপ্রিমকোর্টে তাঁদের চাকরি বাঁচানোর প্রশ্ণে ত্রিপুরা সরকার একাধিকবার পিটিশন দাখিল করেছে৷ কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে৷ তবে, শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে তাই চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অ্যাডহক ভিত্তিতে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট৷ ত্রিপুরা হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ের অনুচ্ছেদ ১২৬ নিয়ে যাঁরা মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন কেবলমাত্র তাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, বাকিদের চাকরি সুরক্ষিত রয়েছে, এ-বিষয়ে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের একাংশ মামলা করেন৷ কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ায় তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷

পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৩ অক্টোবর ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি অরিন্দম লোধের ডিভিশন বেঞ্চ সুপ্রিমকোর্টের রায় বহাল রাখে এবং তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন৷ শুধু তা-ই নয়, ত্রিপুরা সরকার সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পালনে বাধ্য, সে-কথাও বেঞ্চ মনে করিয়ে দিয়েছিল৷


উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, সুপ্রিমকোর্ট এ সংক্রান্ত মামলায় এই সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেছে৷ সেক্ষেত্রে নতুন করে কোনও রায় দেওয়ার এক্তিয়ার নেই উচ্চ আদালতের৷ আদালত আরও বলেছিল, সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে এখন কেবলমাত্র রাজ্য সরকার এ বিষয়ে ভাবতে পারবে৷ সাথে আদালত আরও বলেছিল, রাজ্য সরকারের উচিত সুপ্রিমকোর্টের রায় কার্যকর করা৷ কারণ, সংবিধান মেনে রাজ্য সরকার সুপ্রিমকোর্টের রায় মানতে বাধ্য৷ পাশাপাশি, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল এই রায়ের রিভিউ করার ব্যাপারে এখন আর কোনও এক্তিয়ার নেই মামলাকারীদের৷


আজও সুপ্রিমকোর্টে ওই মামলা গ্রহণের বিষয়ে শুনানি সম্পূর্ণ হয়নি৷ আজ ছিল মোশন হিয়ারিং৷ সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৬ মার্চ সম্ভবত ওই মামলা গ্রহণ করবে কিনা সে-বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবে৷ তার আগে ত্রিপুরা সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত৷ ফলে, এখনই বলা যাচ্ছে না, ওই সব চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে, নাকি ৩১ মার্চ তাঁদের স্থায়ী ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে৷