নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ ডিসেম্বর৷৷ ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক উচ্চতার চরম শিখরে পৌঁছেছে৷ তাতে উপকৃত হবে ত্রিপুরা-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল৷ শনিবার আগরতলায় একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে এ-কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তাঁর বিশ্বাস, এই সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে৷ উভয় দেশের সরকার এক্ষেত্রে আন্তরিক ভূমিকা গ্রহণ করছে৷

এদিন তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিপুরার হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে৷ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া এই সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়ে উঠছে৷ তাতে, ত্রিপুরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ ফেণী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ ত্রিপুরা বাণিজ্যিক এলাকায় রূপান্তরিত হবে৷ কারণ, সেখানে তৈরি হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রেল সামগ্রীর ওঠা-নামা করার কেন্দ্র ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সমস্ত দিক মিলিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরার ভবিষ্যত উজ্জ্বল৷
তিনি মনে করেন, ওই অঞ্চলের উন্নতির মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার অর্থনীতি অনেক উপকৃত হবে৷ সাথে তিনি উভয় দেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সময়ে রাজ্যে লগ্ণি বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সিডি রেশিও ৫৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়াই এর প্রমাণ বহন করে৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন ওই অঞ্চলের মধ্যে জলপথে যোগাযোগ স্থাপনে গৃহীত উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছেন৷
এদিকে, বর্তমান সরকারের সময় রাজ্যে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি, পুলিশ বর্তমান সময়ে নিজে থেকেই ইয়াবা ট্যাবলেট-সহ গ্রেফতার করছে শিক্ষককে৷ এখন আর অপরাধের সঙ্গে আপস করার কোনও মানসিকতা নেই, দাবি করেন তিনি৷
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী এদিন চাঁনমোহন ত্রিপুরার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন৷ তিনি দাবি করেন, কৌশলে এতদিন প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হয়েছে৷ কিন্তু এখন অপরাধীর গ্রেফতারের সাজাও সুনিশ্চিত করা হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় বর্তমানে সাজার হার ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়েছে৷

