নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ ডিসেম্বর৷৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব)-এর বিরোধিতা করে ত্রিপুরায় এডিসি এলাকায় ১২ ঘণ্টা বনধে আইপিএফটি-র উশৃঙ্খলতায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল৷ তাঁদের তাণ্ডবে ১২ জন নিরীহ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে৷ একজন পুলিশ কর্মীও সামান্য আহত হয়েছেন৷ খোয়াই জেলার রতনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় এবং বীরচন্দ্রপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক এবং ১ জন গ্রুপ ডি-কে সুকলে যাওয়ার দায়ে আইপিএফটি-র কর্মীরা প্রচণ্ড মারধর করেছেন৷ এছাড়া, গোমতি জেলার নতুনবাজার থানাধীন খেদারনাল এলাকায় বনধকে ঘিরে বিজেপি ও আইপিএফটি সমর্থকদের মধ্যে ঢিল ছুঁড়াছুঁড়ি হয়৷ তাতে, একজন বিজেপি কর্মী ও এক পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন৷ বিজেপি কর্মীর আঘাত গুরুতর হাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে ত্রিপুরার এডিসি এলাকায় আইপিএফটির ডাকা বনধে মিশ্র সাড়া পড়েছে৷ তবে, সংযুক্ত কমিটির ত্রিপুরা বনধ রাজ্যবাসী প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ শহর এলাকায় দোকান-পাট, হাট-বাজার খোলা ছিল৷ অবশ্য, পরিবহণ ক্ষেত্রে বনধের ভালই প্রভাব পড়েছে৷ তাছাড়া, বিভিন্ন ট্রেন আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাতিল করেছে পূবর্োত্তর সীমান্ত রেলওয়ে৷ হামসফর এক্সপ্রেস তেলিয়ামুড়া স্টেশনে আটকে রাখা হয়েছিল৷ এতে যাত্রী ভোগান্তি চূড়ান্ত হয়েছে৷ সড়কপথে যানবাহন চলেনি, তাই আবদ্ধ ট্রেনের যাত্রীদের তেলিয়ামুড়া স্টেশনেই অপেক্ষা করতে হয়েছে৷ এদিকে, সংযুক্ত কমিটি আগরতলায় সার্কিট হাউস এলাকায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বিরোধ প্রদর্শন করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে৷
আজ সকাল থেকেই এডিসি এলাকায় আইপিএফটি-র কর্মী সমর্থকরা বনধের সমর্থনে পিকেটিংয়ে নেমে পড়েন৷ রাস্তা এবং রেল লাইনে তারা অবরোধ করেন৷ এডিসি এলাকায় জাতীয় সড়ক তাঁরা অবরোধ করেছিলেন৷ এডিসি এলাকায় দোকানপাট, বাজার, অফিস, সুকল, কলেজ বন্ধ ছিল৷ যানবাহন চলাচলও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কম৷ আইপিএফটি সহ-সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল দেববর্মা বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় ত্রিপুরায় এডিসি এলাকায় ১২ ঘণ্টার বনধে দারুণ সাড়া মিলেছে৷ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বনধে শামিল হয়েছেন৷ তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন ত্রিপুরা সরকারের সাথে বিরোধের বহিঃপ্রকাশ নয়৷ কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করবে৷ ওই বিলের বিরোধিতায় বনধ পালন করা হচ্ছে৷
খামটিংবাড়ি এলাকায় এদিন বনধ সমর্থকদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷ ওই এলাকায় বড় মাত্রায় আইপিএফটি সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন৷ পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপার মানিক লাল দাস জানিয়েছেন, বনধকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে৷ কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এখনও ঘটেনি৷ তিনি জানান, পিকেটারদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাঁর দাবি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ, টিএসআর এবং সিআরপিএফ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, সাড়া ত্রিপুরায় প্রয়োজন অনুসারে বন্দোবস্ত করা হয়েছে৷
তবে, বেলা যত গড়িয়েছে আইপিএফটি সমর্থকদের উশৃঙ্খল আচরণ প্রকাশ্যে এসেছে৷ আজ খোয়াই জেলায় রতনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় এবং বীরচন্দ্রপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা ছিল৷ রতনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আইপিএফটি সমর্থকরা এক শিক্ষককে প্রচণ্ড মারধর করেছে৷ অন্যদিকে, বীরচন্দ্রপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ১০ জন শিক্ষক এবং ১ জন গ্রুপ-ডিকে প্রচণ্ড মারধর করেছেন আইপিএফটি-র সমর্থকরা৷ আহত শিক্ষকরা হলেন, বীরচন্দ্রপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের অতনু পাল, নিমাই রায়, দেবব্রত শুক্লদাস, প্রসেনজিৎ সাহা, নারায়ণ নন্দী, অমলেশ দাস, বরুণ দাস, স্বপন দেবনাথ, অলক দাস ও মিহির বিশ্বাস এবং রতনপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের নির্মল দেববর্মা৷
বনধ সত্ত্বেও সুকল খোলা রাখার জন্যই তাঁদের মার খেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনৈক শিক্ষক৷ খবর পেয়ে পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে আইপিএফটি সমর্থকরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়৷ পুলিশ আহতদের খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেছে৷ খোয়াই থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৮ জনকে ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা৷ কিন্তু রতনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ১ এবং বীরচন্দ্রপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষকের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের ভর্তি করা হয়েছে৷
এদিকে, গোমতি জেলার নতুনবাজার থানাধীন খেদারনাল এলাকায় বনধকে ঘিরে বিজেপি ও আইপিএফটি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে৷ বিজেপির বিরুদ্ধে পিকেটিং করার সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে আইপিএফটি৷ ওই সংঘর্ষ চলাকালীন উভয় পক্ষের মধ্যে ঢিল ছোঁড়াছুঁড়িতে এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন৷
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে৷ সে সময় পুলিশের সাথে আইপিএফটি সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়েছে৷ তাতে এক পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন৷ তবে তিনি গুরুতর আঘাত পাননি৷ কিন্তু, বিজেপি কর্মীর আঘাত গুরুতর হাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অমরপুরের এসডিপিও এবং বিডিও ছুটে যান৷ নতুনবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, বনধ সমর্থকদের তাণ্ডব কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে৷ কড়া পুলিশি ব্যবস্থায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে৷

