Home / সিপিএমে বড় ধাক্কা, অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন এডিসির ১৫ জন সদস্য

সিপিএমে বড় ধাক্কা, অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন এডিসির ১৫ জন সদস্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ অক্টোবর৷৷ ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) ভাঙতে চলেছে৷ কেননা, অনাস্থা এনেছেন ১৫ জন সদস্য৷ তাঁদের মধ্যে ছয়জন নির্বাহী সদস্য রয়েছেন৷ এ ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবেই সিপিএমে বড় ধাক্কা বলেই মনে হচ্ছে৷ কারণ, রাজ্যে ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর একের পর এক নির্বাচনে সিপিএম পরাস্ত হচ্ছে৷ একমাত্র এডিসিতে তাঁরা ক্ষমতা ধরে রেখেছিল৷ কিন্তু এখন এডিসিও হাতছাড়া হতে চলেছে৷ বিক্ষুব্ধ সদস্যরা সোমবার রাতে রাজ্যপালের কাছেও অনাস্থা প্রস্তাবের প্রতিলিপি তুলে দিয়েছেন৷


ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদে মোট ২৮ জন নির্বাচিত এবং ২ জন মনোনীত সদস্য রয়েছেন৷ মনোনীত সদস্যদের কোনও ভোটাধিকার নেই৷ সোমবার ১৫ জন সদস্য জেলা পরিষদের সচিবের কাছে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি দিয়েছেন৷ প্রতিরাম ত্রিপুরা (নির্বাহী সদস্য), জয়বাহাদুর জমাতিয়া (নির্বাহী সদস্য), শান্তনু জমাতিয়া (নির্বাহী সদস্য), ধীরেন্দ্র রিয়াং (নির্বাহী সদস্য), পরেশ চন্দ্র সরকার (নির্বাহী সদস), ধনঞ্জয় দেববর্মা, মধুমতি দেববর্মা, মতিলাল শুক্লবৈদ্য, গুরুপদ দেববর্মা, বাদারবাম হালাম, সঞ্জীব মারাক, সাথাই মগ, খগেন্দ্র কুমার রিয়াং, সন্ধ্যা রানি চাকমা (নির্বাহী সদস্য) এবং জয়কিশোর জমাতিয়া, জেলা পরিষদের এই ১৫ জন সদস্য সদস্যা এদিন অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন৷ তাঁদের মধ্যে সঞ্জীব মারাকের ভোটাধিকার নেই৷ কারণ, তিনি মনোনীত সদস্য৷


স্বাভাবিকভাবেই আপাতত ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে৷ কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউ এখনও প্রমাণ করার মতও অবস্থায় নেই৷ এদিকে মেলারমাঠে সিপিএম পার্টি অফিসে শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন৷ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে এডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য জেলা পরিষদ ভেঙে দিতে পারেন৷ তবে এক্ষেত্রে রাজ্যপাল কী ভূমিকা নেন সে দিকেও গোটা রাজ্য তাকিয়ে রয়েছে৷ আজ সন্ধ্যায় জেলা পরিষদের ওই ১৫ জন সদস্য রাজ্যপালের সাথে দেখা করে অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে কথা বলেছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে ফের রাজ্যে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল নতুন রূপ নিতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছে৷


এদিকে, সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমন্ডলি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদে বিজেপির কোন নির্বাচিত সদস্য নেই৷ কিন্তু, শাসক দল বিজেপি এডিসি দখল করার জন্য একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে৷ কয়েকজন সদস্যকে প্রচুর অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে৷ বিবৃতি আরও বলা হয়েছে বর্তমান এডিসি কার্য্যকরী পরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ নেই৷ সীমাবদ্ধ অর্থ ও ক্ষমতা নিয়েই বর্তমান কার্য্যকরী পরিষদ এডিসি এলাকার নাগরিকদের আর্থ ও সামাজিক উন্নয়নে যথাসাধ্য কাজ করছে৷ রাজ্যের বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার এডিসিকে তাদের ন্যায্য অর্থ প্রদান না করে এডিসির কাজকর্ম অচল করার চেষ্টা করছে৷ সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী বিশ্বাস করে, পেছনের দরজা দিয়ে টিটিএএডিসি দখলের বিজেপির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে৷


এদিকে, প্রাক্তন সাংসদ তথা ত্রিপুরা রাজ্য গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি জীতেন্দ্র চৌধুরী সোমবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়েছেন, শাসক দল বিজেপি দুজন সদস্যকে অর্থের প্রলোভন দিয়ে অন্যান্য সদস্যদের সাক্ষর জাল করে একটি চিঠি তৈরী করেছে এবং তা এডিসির সচিবের কাছে জমা দিয়ে অনাস্থার কথা জানিয়েছেন৷ শ্রীচৌধুরী দাবি করেন, যাদের সাক্ষর জাল করেছে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন তারা এই অনাস্থার বিষয়ে কিছুই জানেন না৷ তাদেরকে আগামীকাল দলের তরফ থেকে ডাকা হয়েছে পার্টি অফিসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য৷ তাদের সাথে আলোচনার পরই গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসবে বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী৷