পশুবলিতে নিষেধাজ্ঞা : ধর্মীয় ভাবাবেগ ও ভারতভুক্তির চুক্তিতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না, বললেন রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর ৷৷ ত্রিপুরায় মন্দিরে পশু-পাখি বলি বন্ধ, হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যত সমালোচনা করেছেন রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। তাঁর কথায়, ধর্মীয় ভাবাবেগে আদালতের হস্তক্ষেপ না করাই শ্রেয়। তাছাড়া, ত্রিপুরাকে ভারতভুক্তির সময় ভারত সরকারের সাথে চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তির একটি অংশও বাতিলের কোনও এক্তিয়ার নেই আদালতের। সে-ক্ষেত্রে মন্দিরে বলিপ্রথা বন্ধের জন্য সংসদে আইন পাশ করাতে হবে। কারণ, বলিপ্রথা সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে, সে-কথা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রদ্যুৎ বলেছেন, বিনা কারণে পশুবলি নিরর্থক। তবে, ধর্মীয় ভাবাবেগে চট করে আঘাত দেওয়া যায় না। প্রদ্যুতের কথায়, ত্রিপুরায় মন্দিরে পশুবলি বন্ধের নির্দেশ জারি করার আগে সাধারণ মানুষ এবং সমাজের বিশিষ্ট মানুষের মতামত নেওয়া উচিত ছিল আদালতের। তাঁর মতে, ভগবান ও তাঁর শিষ্যের সম্পর্কে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবুও যদি আদালত মনে করে হস্তক্ষেপ করবে, তা-হলে বকরি ঈদে কুরবানি নিয়েও কী একই নির্দেশ জারি হবে, নাকি শুধুই উপজাতি-বাঙালিদের জন্য তা কার্যকর থাকবে, জানতে চেয়েছেন প্রদ্যুৎ কিশোর।

তাঁর কথায়, বলিপ্রথা নিয়ে বিকল্প চিন্তার পথ দেখাতে পারত আদালত। কিন্তু, তার বদলে আদালত ভারতভুক্তির চুক্তিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর দাবি, তিনি নিজেও বলিপ্রথার সম্পূর্ণ পক্ষে নন। তাঁর সাফ কথা, ত্রিপুরা ভারতভুক্তির সময় রিজেন্ট মহারানি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর সাথে চুক্তি অনুযায়ী রাজন্য আমলের সমস্ত মন্দিরের ব্যয়ভার আজীবন ত্রিপুরা সরকার বহন করবে। সে-ক্ষেত্রে বলিপ্রথা চালু রাখার খরচ ত্রিপুরা সরকার বহন করবে। তাঁর দাবি, ওই চুক্তির একটি অংশও বদল কিংবা বাতিলের কোনও এক্তিয়ার নেই আদালতের। এ-ক্ষেত্রে সংসদে আইন পাশ হলে তবেই ওই চুক্তিতে পরিবর্তন সম্ভব।

এদিন প্রদ্যুৎ কিশোর বলি বন্ধে আদালতের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা দাবি করেছেন। কারণ, মানুষ আমিষভোজি হবেন নাকি নিরামিষাশী, তা আদালত ঠিক করে দিতে পারে না, বলেন তিনি।