নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি. স.)৷৷ বৃদ্ধি বাড়াতে রফতানি ও আবাসন খাতে জোরদার তহবিল গঠন সহ ৭০,০০০ কোটি টাকারও বেশি প্যাকেজ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ৷ নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত ছয় বছরে অর্থনীতির বৃদ্ধির নিম্ন হারকে চাঙ্গা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার৷ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পর অর্থনীতিতে মন্দা ঘনানোর অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে৷ এর মধ্যেই শেষ সাংবাদিক বৈঠকে দেশে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ার দায় ওলা-উবেরের উপর চাপিয়ে বিতর্ক টেনেছিলেন অর্থমন্ত্রী৷ এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেন, ’অর্থনীতি ফের চাঙ্গা হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে৷ কারণ, ৪ শতাংশের নীচে মুদ্রাস্ফীতির হার৷’

এদিনের বৈঠকে একাধিক খাতে আরও বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ৷ আবাসন শিল্পে জোর দিতে ১০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করবে কেন্দ্রীয় সরকার, এমনটাই ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী৷ এনপিএ নয় এবং এনসিএলটি (জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনাল)-এর অধীনস্থ নেই এমন বকেয়া আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে আর্থিক সাহায্য করা হবে৷ মূলত মাঝারি আয় সম্পন্নদের জন্যই এই আবাসন প্রকল্প৷ ১০ হাজার কোটি টাকার এই ফান্ডে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় সরকার এবং কিছুটা বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের তরফে ব্যবস্থা করা হবে৷ এই হাউজিং ফান্ডে বিনিয়োগ করবে এলআইসি, এনআইআইএফ-ও৷
অর্থমন্ত্রী এদিন জানান, দুবাইয়ের মতো শপিং ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে দেশ জুড়ে৷ ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই দেশের চারটি বড় শহরে এই ধরনের শপিং ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে৷ মূলত যোগা, বস্ত্র, পর্যটন এবং চামড়া সম্পর্কিত পণ্য ও পরিষেবার ওপর এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হবে৷
কম কর ফাঁকিতে কোনও ফৌজদারি মামলা নয়, ঘোষণা নির্মলার৷ করদাতাদের যাতে অযথা হয়রানি না করা হয়, তা নিশ্চিত করার কথা আগেই বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী৷ এমনকী আয়কর নোটিশের ভাষাতেও নজর দিতে বলেছিলেন তিনি৷ ফের একবার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করলেন নির্মলা সীতারমণ৷ তিনি জানান, শুক্রবার থেকেই আয়কর রিটার্নের জন্য নয়া এবং সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে৷
এদিনের ঘোষণায় রফতানি ক্ষেত্রে কেন্দ্রের আরও জোর দেওয়ার উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী৷ এই উদ্দেশ্যে নতুন ’’ট্টদ্রঙ্গটক্কঞ্ঝ বা রেমিশন অফ ডিউটিস অর ট্যাক্সেস অন এক্সপোর্ট প্রোডাক্ট’’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন তিনি৷ এই প্রকল্পে ব্যবসায়ীদের রফতানিতে উৎসাহ দিতে ৫০,০০০ কোটি টাকা খরচ করবে সরকার৷ প্রসঙ্গত, গত বছরের তুলনায় আগস্ট মাসে দেশের রফতানির হার ৬.০৫ শতাংশ কমেছে৷
জিএসটি-র ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট রিফান্ডের জন্য চলতি মাস শেষেই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী৷অবাধ বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ বাস্তবায়ন মিশনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পণ্য রফতানিতে সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ই-কমার্সের মাধ্যমে হস্তশিল্প সেক্টরের বৃদ্ধি ও রফতানিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নির্মলা৷
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেন, ’পরবর্তী ত্রৈমাসিক রিপোর্টে আর্থিক বৃদ্ধি বাড়বে৷’ ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফসি-দের মূলধন জোগানে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে বহু এনবিএফসি উপকৃত হয়েছে৷
দেশের আর্থিক মন্দার পরিস্থিতি বদলাতে এদিন নয়াদিল্লির সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে একাধিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ৷ গোয়ায় জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের একদিন আগেই দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি৷ ১৯ সেপ্ঢেম্বরের এই বৈঠকে অর্থনীতিকে ’’চাঙ্গা’’ করতে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী৷

