বাঙালীদের বিদেশী বানানোই উদ্দেশ্য ছিল, নাগরিকপঞ্জী নিয়ে তোপ আমরা বাঙালীর

গুয়াহাটি, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স)৷৷ অসমে বাঙালীদের বিদেশীই বানানোই উদ্দেশ্য ছিল৷ নাগরিকপঞ্জীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর এই ভাবেই তোপ দাগল আমরা বাঙালী৷ ক্ষোভ প্রকাশ করে আমরা বাঙালী অসম রাজ্য কমিটি বলেছে, ভুলে ভরা নাগরিকপঞ্জী সংশোধনের কোন ব্যবস্থা নেই৷ ফলে এই নাম বিভ্রাট নিয়ে নাগরিকপঞ্জী থেকে নাম বাদ যাওয়ায়ই স্বাভাবিক ছিল৷ সংগঠনের সচিব সাধন পুরকায়স্থের কথায়, এই ভাবে নাগরিকত্ব হুমকির মুখে পড়বে৷ কারণ, সামান্য নামের উচ্চারণের ভুলে ট্রাইব্যুনালে অনেকেই বিদেশি হয়েছেন৷

এদিন তিনি বলেন, আজ অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকা সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে৷ তাতে নূ্যনতম ১৫ লক্ষ বাঙালীর নাম বাদ পড়েছে৷ সাথে তাদের সন্তানদের নিয়ে সর্বমোট ২৫ লক্ষ বাঙালীর নাম উঠেনি নাগরিকপঞ্জীতে৷ তিনি আরও বলেন, নাগরিকপঞ্জীতে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের মধ্যেও এক বিরাট সংখ্যক লোকের নাম ভুল প্রকাশিত হয়েছে৷ উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কোথাও পল্লবীর স্থলে পল্লয়ী, অনিশার স্থলে অনিছা লেখা রয়েছে৷ শুধু তাই নয়, পদবীতেও ভুলেভরা তালিকা প্রকাশিত হয়েছে নাগরিকপঞ্জীতে৷ তিনি বলেন, যেখানে পদবী দেব হওয়ার ছিল সেখানে দেয় হয়ে রয়েছে৷

তিনি আক্ষেপ করে বলেন , এই ভুলে ভরা নাগরিকপঞ্জী সংশোধনের কোন ব্যবস্থা নেই৷ ফলে, এই নাম বিভ্রাটে আগামীদিনে নাগরিকপঞ্জী থেকে নাম বাদ যাবেই৷ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নাগরিকত্ব হুমকির মুখে পড়বে৷ কারণ, নামের উচ্চারণের ভুলে ট্রাইব্যুনালে অনেকেই বিদেশি হয়েছেন৷

তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়াটি ষড়যন্ত্রমূলক৷ তাঁর অভিযোগ, বাঙালীদের বিদেশি বানানোই উদ্দেশ্য ছিল, সরকারের কোন সদিচ্ছা প্রতিফলিত হয়নি৷

এদিন তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, অসম সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর হুমকি দিচ্ছেন নাগরিকপঞ্জীতে নাম না থাকলে অসমের নাগরিক হওয়া যাবে না৷ তাঁর আরও অভিযোগ, বাঙালীদের হেনস্থা করার ষড়যন্ত্র চলছে৷ তাই তিনি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই বলে মনে করেন৷ তিনি এই ইস্যুতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন৷