পৃথক স্থানে দিনভর অবরোধে নাকাল রাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ সেপ্টেম্বর৷৷ একাধিক সমস্যায় পৃথক স্থানে অবরোধ সংগঠিত হয়েছে৷ শনিবার খোয়াই-কমলপুর সড়ক অবরোধ করেছে আইপিএফটি সমর্থিত মোটর শ্রমিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণ৷ অন্যদিকে আমবাসা-গন্ডাছড়া সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় জনগণ৷ এছাড়া, গন্ডাছড়া মহকুমায় তিনটি পৃথকস্থানে যান চালকরা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অবরোধ করেছেন৷

বেহাল রাস্তার জন্য ক্ষোভে খোয়াই-কমলপুর সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছিল৷ তেমনি, পানীয় জল, রেগার বকেয়া মজুরি এবং ধলাই নদীর উপর অর্ধসমাপ্ত পাকা সেতুর কাজ সমাপ্ত করার দাবিতে আমবাসা-গন্ডছড়া সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছিল৷ উভয়স্থানে অবরোধের ফলে নিত্যযাত্রীরা মহা সম্যসায় পড়েছিলেন৷

এদিন সকাল ৮টা নাগাদ চাম্পাহাওয়র থানাধীন বাচাইবাড়িতে সড়ক অবরোধ করেন আইপিএফটি সমর্থিত শ্রমিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণ৷ মূলত, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই-বেহালাবাড়ি, খোয়াই-গোপালনগর, খোয়াই-আশারামবাড়ি, বেহালাবাড়ি- গোপালনগর এবং খোয়াই-কমলপুর রাস্তাটির বেহাল দশা৷ ফলে, যান চালকরা যান বাহন নিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়েন৷ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হন৷ ওই রাস্তাগুলির সারাই করার জন্য একাধিক বার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ৷ ফলে, এদিন বাধ্য হয়ে বাচাইবাড়িতে সড়ক অবরোধ করেন আইপিএফটি সমর্থিত শ্রমিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণ৷ দীর্ঘক্ষণ অবরোধের ফলে উভয়দিকের যান চলাচল ব্যাহত হয়৷ খবর পেয়ে অবরোধস্থলে ছুটে যান পূর্ত দপ্তরের স্থানীয় আধিকারিক, তুলাশিখর ব্লকের বিডিও এবং খোয়াই মহকুমা শাসক সোনাক্ষি সিং তোমর৷ তাঁরা অবরোধকারীদের অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান৷ কিন্তু, সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না মিললে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন৷ অবশেষে প্রশাসনিক আধিকারিকরা রাস্তা সংস্কারের কাজ শীঘ্রই হাতে নেওয়া হবে বলে আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর ১২টা নাগাদ অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন৷

এদিকে, ৩ দফা দাবিতে শনিবার আমবাসা-গন্ডাছড়া রোডের আড়াই মাইল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় জনগণ৷ জনজাতি অধ্যুষিত ওই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যার জর্জরিত৷ অবরোধকারীদের বক্তব্য, রেগার বকেয়া মজুরি, পানীয় জলের সুব্যবস্থা এবং ধলাই নদীর উপর অর্ধসমাপ্ত পাকা সেতু নির্মাণের কাজ ১৫ দিনের মধ্যে শুরু করতে হবে৷ এই দাবিতেই এদিন তারা অবরোধ করেছেন৷ সকাল ১০টা থেকে এই অবরোধের ফলে উভয়দিকে যান চলাচল ব্যাহত হয়৷ খবর পেয়ে অবরোধস্থলে ছুটে যান আমবাসা মহকুমা শাসক, ডিসিএম, বিডিও এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারীকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ আমবাসা মহকুমা শাসক অবরোধকারীদের দাবির যুক্তিকতা শিকার করে সমস্যা সমাধানে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হবে আশ্বাস দেন৷ এই আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর ২টা নাগাদ অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা৷

অপরদিকে, গন্ডাছড়া মহকুমার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবরোধ করেন যান চালকরা৷ এদিন সকাল ৯টা থেকে একে একে গন্ডাছড়া-রইস্যাবাড়ি, গন্ডাছড়া-অমরপুর এবং গন্ডাছড়া-আমবাসা সড়কে অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ যান চালকরা৷ তাদের অভিযোগ, জগবন্ধু পাড়া সেন্ডিকেট থেকে চালকদের কাছ থেকে অবৈধ্যভাবে ছাড়পত্রের টাকা আদায় করা হচ্ছে৷ তাদের আরও অভিযোগ গন্ডাছড়া সেন্ডিকেট থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার পর অন্য আরেকটি সেন্ডিকেট চালকদের কাছ থেকে বলপূর্বক ছাড়পত্রের টাকা আদায় করছে৷ তাই, এদিন তারা সকাল ৯টা থেকে গন্ডাছড়া মহকুমার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবরোধ করেন৷ খবর পেয়ে গন্ডাছড়া মহকুমা শাসক অফিসের ডিসিএম, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং গন্ডাছড়া থানার ওসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী অবরোধস্থলে ছুটে যান৷ আগামী ২৪ সেপ্ঢেম্বর গন্ডাছড়া মহকুমা শাসক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সেন্ডিকেটের কর্মকর্তা ও চালকদের নিয়ে বৈঠক করবেন এবং ওই সমস্যার সমাধানে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলে এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ যান চালকরা অবরোধ তুলে নেন৷