নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ জুলাই৷৷ ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স তদন্ত শুরু হয়েছে৷ পূর্ত দফতরের কাজ অনুমোদনে পদ্ধতিগত অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক বাদল চৌধুরীকে সমন পাঠিয়েছে ভিজিল্যান্স৷ শুধু তা-ই নয়, পূর্ত দফতরের তদানীন্তন ইঞ্জিনিয়ার-ইন চিফ সুনীল ভৌমিককেও ভিজিল্যান্স সমন পাঠিয়েছিল৷ তিনি হাজিরা দিয়েছেন ঠিকই, তবে বক্তব্যে ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা সন্তুষ্ট নন বলে সূত্রের খবর৷

ত্রিপুরায় ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে পূর্ত দফতরে ৮০০ কোটি টাকার কাজ অনুমোদনে পদ্ধতিগত অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে৷ ওই অনিয়মের জন্য ভিজিল্যন্স প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান সিপিএম বিধায়ক বাদল চৌধুরী এবং ত্রিপুরা সরকারের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার-ইন চিফ সুনীল ভৌমিককে সমন পাঠিয়েছে৷ সূত্রের খবর, আজ সুনীল ভৌমিক ভিজিল্যান্স আধিকারিকদের সামনে হাজির হয়েছেন৷ তাঁর কাছে ওই অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ণের জবাব চেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ সূত্রের খবর, অনেক প্রশ্ণেরই সদুত্তর দেননি তিনি৷ ফলে, তাঁকে আবারও ডাকবে ভিজিল্যান্স৷
এদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক বাদল চৌধুরী ভিজিল্যান্সের সমনপ্রাপ্তি স্বীকার করেছেন৷ তিনি বলেন, আজ ভিজিল্যান্সের একটি চিঠি পেয়েছি৷ তাতে, আগামীকাল ভিজিল্যান্স দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে৷ তিনি বলেন, আপাতত ভিজিল্যান্সের আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয়৷ কারণ, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে আগরতলার বাইরে রয়েছি৷ তাঁর দাবি, এ-কথা ভিজিল্যান্স আধিকারিকদের টেলিফোনে জানিয়েছি৷
তাঁর কথায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী ক্ষেত্র ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না৷ তাছাড়া, শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়৷ ফলে, আগামী সেপ্ঢেম্বরে তাঁদের সাথে দেখা সম্ভব হবে বলে জানিয়ে দিয়েছি৷ তিনি বলেন, কী কারণে ভিজিল্যান্স যেতে বলছে তা এখনও পরিষ্কার নয়৷ তাছাড়া, কারণ না জেনে যাওয়াও সম্ভব নয়৷ তাঁর দাবি, ভিজিল্যান্স আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে কেন ডাকা হচ্ছে তা অবশ্যই তাঁদের জানাতে হবে৷
কারণ, আমাকেও প্রস্তুতি নিতে হবে৷ এমনিতেই ডাকলে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই পরবর্তী সময়ে দিন তারিখ স্থির করতে বলেছি, বলেন তিনি৷
প্রসঙ্গত, বাম আমলে বহু দুর্নীতি হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে৷ প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রাক্তন আমলার বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স তদন্তের ঘটনায় মনে করা হচ্ছে, ত্রিপুরায় বাম আমলের সমস্ত দুর্নীতি এখন গর্ত খুড়ে বের করবে বিজেপি জোট সরকার৷

