পান্না আহমেদ ধর্ষণ মামলায় পুণরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন মঞ্জুর করল ত্রিপুরা হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ মে৷৷ বরখাস্ত টিসিএস অফিসার পান্না আহমেদের ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতার বয়াণ পুণরায় রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের মুখ্যবিচারপতি সঞ্জয় কারোল৷ আগামী ১৭ জুন এই মামলায় উভয় পক্ষকে জজ কোর্টে হাজির থাকতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ ওইদিন সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন চূড়ান্ত হবে৷ বৃহস্পতিবার এ-কথা জানিয়েছেন আইনজীবী সম্রাট কর ভৌমিক৷

২০১৬ সালে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হন তদানিন্তন যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা পান্না আহমেদের৷ ভাড়া খুজতে আসলে দুই সন্তানের জননীকে তিনি ধর্ষণ করেন বলে থানায় মামলা করেন নির্যাতিতা৷ ওই ঘটনায় প্রথমে তিনি গ্রেপ্তারী এড়াতে পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ ত্রিপুরা এবং অসম পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই সপ্তাহ পর তাঁকে করিমগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছিল৷ ধর্ষণে অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে তদানিন্তন রাজ্য সরকার বরখাস্ত করেছিল৷

ওই ধর্ষণ মামলায় পশ্চিম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় হলে আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান পান্না আহমেদ৷ নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, তাঁর বয়ান আদালতে সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়নি৷ তাই বয়ান পুণরায় রেকর্ড আবেদন জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু, আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়৷ এরপরই রাজ্য সরকার ত্রিপুরা হাইকোর্টে আবেদন জানায়৷

এ-বিষয়ে আইনজীবী সম্রাট কর ভৌমিক আজ জানিয়েছেন, পশ্চিম জেলা দায়রা ও জজ আদালতে ধর্ষণে অভিযুক্ত বরখাস্ত টিসিএস অফিসার পান্না আহমেদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছিল৷ কিন্তু, নির্যাতিত অভিযোগ করেন আদালতে তাঁর বয়ান সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়নি৷ তাই তিনি স্পেশাল প্রসিকিউটর চেয়েছিলেন৷ সেই মোতাবেক তাঁকে স্পেশাল প্রসিকিউটর দেওয়া হলে পুণরায় সাক্ষ্য গ্রহণ বিশেষ প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু, আদালত সেই আবেদন খারিজ দেয়৷ ফলে রাজ্য সরকার ত্রিপুরা হাইকোর্টে পান্না আহমেদের ধর্ষণ মামলায় পুণরায় সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানায়৷ শ্রীভৌমিক বলেন, আজ ত্রিপুরা হাইকোর্টের মুখ্য বিচারপতি সঞ্জয় কারোল রাজ্য সরকারের ওই আবেদন মঞ্জুর করেছেন৷ তিনি ওই মামলায় পুণরায় সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, আগামী ১৭ জুন পশ্চিম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই মামলায় উভয় পক্ষকে হাজির থাকার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ ওইদিন সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য্য হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সম্রাট কর ভৌমিক৷ তাঁর কথায়, পশ্চিম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণে কিছু ত্রুটি এবং অসঙ্গতি রয়েছে৷ তাই, পুণরায় সাক্ষ্য গ্রহণ বিশেষভাবে জরুরী৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *