কুঞ্জবনে ১১টি বৃক্ষ নিধন, রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ও বন দফতর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ মে৷৷ রহস্যজনকভাবে বৃক্ষ নিধন, প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা আদৌ মিটবে কিনা সে চিন্তায় রয়েছে বন দফতর ও পুলিশ প্রশাসন ৷ ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার কুঞ্জবন টাউনশিপ কোয়ার্টার কমপ্লেক্স এলাকায় রাতের আধারে ১১টি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় ধোঁয়াশা থাকলেও বন দফতর অনুমান করছে স্থানীয় জনগণই এর সাথে যুক্ত ৷ জেলা বন আধিকারিক প্রেমানন্দ দেববর্মার কথায়, ওই গাছগুলির কোনও বাণিজ্যিক মূল্য নেই ৷ ধারণা করা হচ্ছে ওই গাছগুলি ঝড়ে ভেঙে যেতে পারে, তাই স্থানীয় বাসিন্দারা হয়তো কেটে ফেলেছেন ৷


বুধবার গভীর রাতে কুঞ্জবন টাউনশিপ কোয়ার্টার এলাকায় ভিভিআইপি জোনে ১১টি গাছ কেটে ফেলা হয় ৷ সকালে পথচারিরা দেখতে পেয়ে খবর দেন বন দফতরে ৷ বন দফতরের আধিকারিক আসার পর স্থানীয় কয়েকজন উপজাতি জনগোষ্ঠীয় জনগণের সঙ্গে এ ঘটনা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে ৷
কুঞ্জবন টাউনশিপ কোয়ার্টার এলাকার নিম্নাঞ্চলে সরকারি জমি দখল করে কয়েকটি উপজাতি পরিবার বসতঘর নির্মাণ করে স্থায়ী বসবাস করছে ৷ সম্প্রতি ঝড়ে একটি ইউকিলিপ্ঢাস গাছ ভেঙে এক উপজাতি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৷


জেলা বন আধিকারিক প্রেমানন্দ দেববর্মার বক্তব্য, ইউকিলিপ্ঢাস, মান্দার জাতীয় ১১টি গাছ কোনও অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে ৷ গাছগুলি সরকারি জমির উপর ছিল ৷ তিনি বলেন, সবকটি গাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৷ তাছাড়া নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় মামলা করা হয়েছে ৷ তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে আদালতে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর তালিকা জমা দিয়েছেন ৷


প্রেমানন্দবাবুর কথায়, ওই ১১টি গাছের কোনও বাণিজ্যিক মূল্য নেই৷ ফলে, বিক্রির উদ্দেশ্যে গাছগুলি কাটা হয়েছে এমনটা মনে হচ্ছে না৷ তবে, উচ্চ নিরাপত্তা জোনে রাতের আধারে কীভাবে এতগুলি গাছ কেটে ফেলা হল নিঃসন্দেহে তা যথেষ্ট চিন্তার বিষয় ৷ তিনি বলেন, পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে৷
গাছ কাটা নিয়ে যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে, এ-বিষয়ে প্রেমানন্দ দেববর্মার ধারণা, যেখানে গাছগুলি কাটা হয়েছে ওই স্থানের নিম্নাঞ্চলে কয়েকটি উপজাতি পরিবারের বসবাস ৷

তাঁরাই হয়তো গাছগুলি কেটে ফেলেছেন ৷ কারণ, ঝড়ে ওই গাছগুলি ভেঙে তাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ৷ তাঁর বক্তব্য, অনুমতি নিয়ে গাছ কাটতে হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মেনে কাজ করতে হত৷ তাই, বিনা অনুমতিতেই গাছ কেটে ফেলা শ্রেয় বলে হয়তো মনে করেছেন তাঁরা ৷ তাঁর দাবি, সবই আন্দাজের উপর ভিত্তি করে বলছেন ৷ পুলিশ তদন্ত করে রহস্যের উন্মোচন করুক, তা চাইছেন তিনি ৷