নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারী৷৷ আজ বিধানসভায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয়েছে৷ উল্লেখ্য, গত ২২ ফেবয়ারি অর্থ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত তথা উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেন৷ আজ বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ প্রস্তাবের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত তথা উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেববর্মা বলেন, সরকার গঠন হওয়ার পর প্রায় ১১ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে৷ এর মধ্যে ‘চলো পাল্টাই’ নীতির সাথে সঙ্গতি রেখে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ যে অবস্থার মধ্যে পূর্বতন সরকার রাজ্যের আর্থিক অবস্থা রেখে গেছে, তা সবাই অবগত আছেন৷ যেখানে ২০১৮-১৯ বি ই-তে রাজ্যের নিজস্ব কর ছিল ১৯৯০৩৬ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ আর ই-তে সেটা ২১৩৪৮৫ কোটি টাকা করার চেষ্টা করা হয়েছে৷

কর বহির্ভত আয়, যেটা ২০১৮-১৯ বি ই-তে ছিলো ১৭০৯০০ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ আর ই-তে সেটা ১৭৯০৬৩ কোটি টাকা করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ যেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ফিসকাল ডিফিসিট ছিলো ৪৪৯ শতাংশ, ২০১৮-১৯ বি ই-তে সেটা কমিয়ে ৩৫৮ শতাংশ করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ২০১৮-১৯ আর ই-তে সেটা আরও কমিয়ে ২৩৯ শতাংশ করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ এই আর্থিক অবস্থার মধ্যে থেকেও ভিশন ডকুমেন্ট বাস্তবায়নে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷
এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যের কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন-এর অনুযায়ী বেতনক্রম চালু করা হয়েছে৷ নবম শ্রেণীতে পাঠরতা প্রত্যেক মেয়েদের সাইকেল-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে যা আগে ইনকাম-এর উপর নির্ভর করে দেওয়া হতো৷ জনজাতি অংশের ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষার প্রসারে সমস্ত প্রয়াস চালানো হচ্ছে৷ নতুন ১৮টি ই এম আর সুকল তার একটি বাস্তব প্রয়াস৷
উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার অল্প সময়ের মধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে৷ যেমন নতুন ২১৯টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে অনেকগুলি কার্যকরও হয়ে গেছে৷ সরকার সেই দিশাতে কাজ করে যাচ্ছে এবং তার স্বার্থে যে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে, তা আমাদের সরকার দিতে প্রতি’াবদ্ধ এবং তার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে৷ এ বিষয়ে বিধায়ক ভানুলাল সাহাও আলোচনায় অংশ নেন৷