নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ ফেব্রুয়ারী৷৷ কেন্দ্রের মোদি সরকার আদিবাসী, দলিত ও পশ্চাদপদ শ্রেণীদের স্বার্থের পরিপন্থি বলে অভিযোগ করল বামপন্থী সংগঠনগুলি৷ শনিবার গণমুক্তি পরিষদ, সর্বভারতীয় কৃষক সভার ত্রিপুরা রাজ্য শাখা এবং ক্ষেত মজদুর ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে৷ গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি তথা সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী একের পর এক তথ্য তুলে ধরে এদিন স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিলেন দেশের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী কি৷ এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে জুমলা বললেন আবারও৷

গণমুক্তি পরিষদ তথা জিএমপি সভাপতি জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, শত শত বছর ধরে যারা রাজ্যে জুমচাষে অভ্যস্থ ছিল তাদেরকে একসময় ভিটেমাটি ছাড়া করে দিয়ে ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিতাড়িত করা হয়েছিল৷ স্বাধীন দেশের বর্তমান সরকার গত কুড়ি ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশনের রায় দিতে গিয়ে যা বলেছে, তাতে দীর্ঘ এই সময় বাদেই এটি স্বীকার করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি৷ তিনি জানান, রিজার্ভ ফরেস্টের কথা বলে যাদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, তাদের পক্ষ থেকে ৪২ লক্ষ ১৯ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছিল৷ কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাতে এই আবেদনও করতে পারেননি৷ শনিবার অব্দি এই অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ লক্ষ ৮৯ হাজার দরখাস্ত গ্রাহ্য করা হয়েছে৷ রাজ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন কারণে নথিপত্র, প্রমাণাদির অভাবে আবেদন পর্যন্ত করা যায়নি৷
এদিন, সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই অবস্থায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়দানের পিছনে যথেষ্টই উদাসীনতা রয়েছে সরকারের৷ সরকারের পরোক্ষ মদতেই সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এখন যাদের আবেদন গ্রাহ্য হয়নি তাদেরকে স্ব স্ব স্থান থেকে বিতাড়িত করার কথা বলা হয়েছে৷ বিষয়টি এড়াজ্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন৷ এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এদিন সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তিন তালাক বিল নিয়ে একবার বাতিল করেও ফের অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে৷
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকটি ইস্যুতে গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন৷ একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোথায় রক্ষা হচ্ছে সেই প্রতিশ্রুতি, প্রশ্ণ তুলেন জীতেন্দ্র চৌধুরী৷ বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, এসসি ও এসটিদের জন্য পৃথক ভাবে বরাদ্দের কথা থাকলেও তা করা হয়নি৷ সম্প্রতি যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তাতেও এই বিষয়টি লক্ষ করা গিয়েছে বলে তিনি জানান৷ তিনি বলেন, এসসিদের জন্য ১৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা থাকলেও তা করা হয়নি৷ মোট ২৭ কোটি ৮৪ হাজার টাকার বাজেটে এসসিদের জন্য ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বাজেট থাকার কথা থাকলেও ধরা হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার ৮০১ কোটি টাকা৷ এসসিদের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী৷ তিনি বলেন৷ এক্ষেত্রে ৭৫৯৮৭ কোটি টাকার বাজেটের কথা থাকলেও ২৬৯০১ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫০০৮৬ কোটি টাকা৷