প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আয়োজিত চা-চক্রে যাচ্ছেন না ঐক্যফ্রন্ট ও বাম নেতারা

বাসুদেব ধর (ঢাকা), ২৭ জানুয়ারি (হি. স.) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন-উত্তর শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন আগামি ২ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া দল ও জোটের নেতাদের চা-চক্রের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ওই আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ওই চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের। তাদেরকে আমন্ত্রণ পত্র পাঠনো হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও বাম গণতান্ত্রিক জোটের আটটি দলের ১৬ জন নেতা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর সেই আমন্ত্রণে যাচ্ছেন না। যাচ্ছেন না বাম নেতারাও। তবে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্যে বৈঠক ডেকেছে ৬ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যাচ্ছেন না।


তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের এজেন্ডা থাকলে আমরা সংলাপে যাবো, না হলে যাবো না। এটাই ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির সিদ্ধান্ত। ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিজয়ীকে শুভেচ্ছা জানাতে কেন যাবো?”ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “২ ফেব্রুয়ারি শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে গণভবন থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য চা-চক্রের আমন্ত্রণ পেয়েছি, কিন্তু এতে যাওয়ার সুযোগ নেই।” সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ওই নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। আমরা তাই এটা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ডাকা হয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি না।”


ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিরোধী সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়ে দেন, তারা যেহেতু একাদশ সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হয়নি বিধায় প্রত্যাখ্যান করেছেন তাই শপথ গ্রহণ ও সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। শিগগিরই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ড. কামাল দেশে ফেরার পর এই আমন্ত্রণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের একটি সূত্র। প্রধানমন্ত্রীর চা-য়ের আমন্ত্রণ প্রাপ্ত দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ওরফে ক্বাফী রতন জানান, “সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই ভুয়ো নির্বাচনকে স্বাগত জানাতে যাব না”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *