ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি (হি.স.): আলোচনা না চায়ের আমন্ত্রণ, এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে ধোঁয়াশার মধ্যে আওয়ামি লিগ নেতারা পরিষ্কার করে দিলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন বা অভিযোগের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগ প্রতিপক্ষ বিএনপি বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা করবে না। তবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামায়াত ছাড়া অন্য সব দলকে চায়ের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন, যেখানে সরকার পরিচালনায় তাকে সহযোগিতার প্রশ্নে কথাবার্তা বলবেন। নির্বাচনে কারচুপি, অনিয়মের অভিযোগ বা এ নিয়ে কোনও প্রশ্নই আমলে নেবে না সরকার বা ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগ।
আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথমে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু পরে তিনিই আবার তা অস্বীকার করায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।

এখন সরকার বা আওয়ামি লিগ কোনও সংলাপ করবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে যে দলগুলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল- তাদের সঙ্গে সরকারের কাজে সহযোগিতার বিষয়ে কথাবার্তা হতে পারে। দলের অন্য নেতারাও মনে করছেন, এখন দেশে বিরোধী বিএনপি বা অন্য দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কোনও ইস্যু নেই বা সেরকম কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।এইচ টি ইমাম বলেন, আমাদের যে ইশতেহার, সেখানে আমাদের যে কর্মসূচি, আমরা কি করব, সবকিছু দেওয়া আছে। সেগুলি জনগণ অনুমোদন করেছে। এখন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর তা বাস্তবায়ন করতে হলে, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরাও সকলকে নিয়েই কাজ করতে চাই। সেজন্য সবাইকে আহবান করছি যে আসুন, চা চক্রে আসুন। আমরা কথাবার্তা বলি। আওয়ামি লিগ নেতাদের অনেকে মনে করেন, আলোচনায় এলেও বিএনপি-সহ বিরোধী দলগুলি নির্বাচন নিয়েই তাদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করবে। তার জবাবের জন্যও আওয়ামি লিগ প্রস্তুত থাকবে। অবশ্য আলোচনার সুযোগ না থাকলে চায়ের আমন্ত্রণকে রাজনৈতিক দলগুলি কতটা গুরুত্ব দেবে, সরকার বা আওয়ামি লিগের সেই প্রশ্নও রয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিম-লির সদস্য এবং মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, চায়ের আমন্ত্রণে কথাবার্তা হতেই পারে এবং তাতে সহযোগিতার ইস্যুতেই তাদের অগ্রাধিকার থাকবে।