কৈয়াঢেঁপা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেটে গরু পাচারকালে বিএসএফ পাচারকারী সংঘর্ষ, গ্যাস গান ছিনতাই, শূণ্যে গুলি

নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ২১ সেপ্ঢেম্বর৷৷ গরু পাচারকালে বিএসএফ ও পাচারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে৷ পাচারকারীরা দুটি গ্যাস গান ছিনতাই করেছে৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএসএফকে শূণ্যে গুলি চালাতে হয়েছে৷ এই ঘটনার পর বিএসএফ জওয়ানরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ শুক্রবার বিকাল চারটা নাগাদ মধুপুর থানাধীন কামথানা এলাকায় বিএসএফ ও পাচারকারী সংর্ঘষের ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে৷ রাত ১০টা পর্যন্ত বিএসএফ ও বিজিবি ফ্ল্যাগ মিটিং করেছে৷ শনিবার ফের দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীরা ফ্ল্যাগ মিটিং করবেন৷

সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত গরু পাচার চলছে৷ মাঝে মধ্যেই পাচারকারী ও সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষও হচ্ছে৷ শুক্রবার অনুরূপ একটি ঘটনায় মধুপুর থানাধীন কামথানা এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়৷ এদিন বিকাল ৪টা নাগাদ গরু পাচার কালে বিএসএফ বাঁধা দিতে গেলে পাচারকারীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়৷ জানা গেছে, চারজন পাচারকারী কৈয়াঢেঁপা সীমান্ত এলাকা দিয়ে গরু পাচার করছিল৷ ওই সময় বিষয়টি বিএসএফের ৪৭ নং ব্যাটেলিয়ানের বিওপি ক্যাম্পে জওয়ানদের নজরে আসে৷ চারজন বিএসএফ জওয়ান তখন সীমান্ত টহল দিচ্ছিলেন৷ তখন, বিএসএফ জওয়ানরা পাচারকারীদের পেছনে ধাওয়া করেন৷ পাচারকারীদের আটক করতে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়েন৷ তখন পাচারকারীরা বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলা করে৷ ওই সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়৷ পাচারকারীরা বিএসএফ জওয়ানদের হাত থেকে দুটি গ্যাস গান ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়৷ খবর পেয়ে কামথানা ক্যাম্পের অন্য জওয়ানরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান৷ পাচারকারীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ জওয়ানরা শূণ্যে গুলি চালায়৷ এরই মাঝে পাচারকারীরা সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়৷

খবর পেয়ে মধুপুর থানার পুলিশ ও বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান৷ এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়৷ ওই এলাকায় আরোও পাচারকারী রয়েছে সন্দেহে বিএসএফ জওয়ানরা বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়৷ তল্লাশি চালানোর সময় বিএসএফ জওয়ানরা কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়৷ বিএসএফ জওয়ানরা অন্যায় ভাবে নিরীহ মানুষের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর করেছে এই অভিযোগে পরিস্থিতি আরোও ভয়ংকর রূপ নেয়৷ অবস্থা জটিল আকার ধারন করায় সমগ্র এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়৷

এদিকে, সন্ধ্যা ৭টা থেকে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা ফ্ল্যাগ মিটিং শুরু করেন৷ বিএসএফের পক্ষ থেকে পাচারকারীদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া গ্যাস গান ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়৷ পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তে সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি আরো বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়৷ রাত ১০টা পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে কোনও সুরাহা হয়নি৷ তাই, শনিবার ফের দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে মিলিত হবেন বলে স্থির হয়৷

জানা গেছে, এদিনের ঘটনায় সীমান্তে পাহাড়া আরও মজবুত করা হয়েছে৷ কিন্তু, প্রতিবারই পাচারকে ঘিরে সংঘর্ষের পর সীমান্তে পাহাড়া বাড়ানো হয়৷ তা সত্বেও পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ রাজ্যে প্রায় ৮০ কিমি সীমান্ত এলাকা উন্মুক্ত রয়েছে৷ সেখানে এখনও কাঁটাতারের বেঁড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি৷ তবে, কাঁটাতারের বেঁড়া কেটেও রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হচ্ছে বলে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের অভিযোগ৷ রাজ্যের সীমান্ত এলাকাগুলিতে আরও কড়া নিরাপত্তার দাবি উঠেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *