সিবিআই তদন্তের দাবিতে নিহত দুই ছাত্রের দেহ দাহ করল না দুই পরিবার

ইসলামপুর(উত্তর দিনাজপুর), ২২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ইসলামপুর পুলিশের গুলিতে নিহত দুই ছাত্রের দেহ দাহ করল না তাদের পরিবার। সিবিআই তদন্তের দাবিতে দুই পরিবারই নিহত দুই ছাত্রের দেহ দাহ না করে গ্রামের এক পাশে মাটি চাপা দিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। রাতভর পালা করে দেহ পাহারা দিলেন শোকার্ত স্বজন ও পড়শিরা।

দাড়িভিটা স্কুলের সামনে পুলিশের গুলিতে মৃত রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মনের পরিবার ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন। আর সিবিআই তদন্ত হলে ফের যদি ময়নাতদন্ত হতে পারে, সেকথা ভেবেই মৃতদেহ দাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আশঙ্কা, পুলিশ যদি জোর করে দেহ তুলে নিয়ে যায়, তাই শুক্রবার রাত জেগেই দেহ পাহারা দিল গোটা গ্রাম।

রাজেশের বাবা নীলকমল সরকার বলেন, “এই সরকারের উপর আমরা আর ভরসা রাখতে পারছি না। সিবিআই আমার ছেলের মৃত্যু ঘটনার তদন্ত করুক সেই দাবি জানাচ্ছি। এবং একথা মাথায় রেখে গ্রামের সবার সঙ্গে কথা বলেই আমরা মৃতদেহ দাহ না করে মাটি চাপা দিয়ে রেথে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।” রাজেশকে তাদের সদস্য বলে দাবি করে শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে মিছিল করে তাঁর দেহ নিয়ে গ্রামে ফেরে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। রাতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল থেকে ছেলের দেহ নিয়ে গ্রামে আসেন তাপস বর্মনের বাবা ও অন্য আত্মীয়রা। দাড়িভিটা গ্রামে বাড়ি মৃত তাপস বর্মনের পরিবারের। পাশের গ্রামে বাড়ি ছিল রাজেশের। এখন দুজনের দেহই পাশাপাশি রাখা হয়েছে দাড়িভিটাতেই। শনিবার সকালে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন গ্রামবাসীরা।

এদিন বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের তরফে উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের ভাল সাা পড়েছে জেলার সর্বত্র। অধিকাংশ স্কুল কলেজেই কোনও ক্লাস হয়নি। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ রায়গঞ্জ ও ইটাহার থানার কাছে দুর্গাপুরে প্রায় একঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন এবিভিপির সদস্যরা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *