নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ডিজিটালের যাদুতে গায়েব হয়ে গেলেন মানুষ৷ তাও এক-দুই জন নয়৷ ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৭৬ জন মানুষ বেপাত্তা৷ অবাক করার মতো ঘটনা হলেও সত্যি৷ রেশন কার্ড ডিজিটাল হতেই রাজ্যের জনসংখ্যা ৩৯ লক্ষ ৪০ হাজার ২৭৭ থেকে একলাফে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০১৷ তাতে প্রকাশ্যে এসেছে, এতদিন প্রতিমাসে ১৪ লক্ষ ৩ হাজার ৮০ কেজি রেশনের চাল হাফিজ হয়েছে৷ ভূয়ো রেশন কার্ডের মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে অবাধে৷ রেশনের চাল নিয়ে বিরাট ঘোটালার তথ্য সামনে এনেছেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর কথায়, সরকারী অর্থ লুটেপুটে খেয়ে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের কাঁধে ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গেছে পূর্বতন সরকার৷
শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজ্যে ৯ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৬ রেশন কার্ড হোল্ডার ছিলেন৷ রেশন কার্ডের নথি অনুযায়ী রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ছিল ৩৯ লক্ষ ৪০ হাজার ২৭৭ জন৷ কিন্তু, ই-পিডিএস সিস্টেম চালু হওয়ার পর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, রেশন কার্ডধারী পরিবার রয়েছে ৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭০৬টি৷ সে মোতাবেক রাজ্যের জনসংখ্যা ৩৬ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০১ জন৷ তাঁর দাবি, এতদিন রাজ্যে ভূয়ো রেশন কার্ড ছিল ৬২ হাজার ৩৪০টি৷ তাতে, ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৭৬টি ভূয়ো নাম ওই রেশন কার্ডে ছিল৷ সমস্ত ভূয়ো রেশন কার্ড বাদ দেওয়া হয়েছে৷
রাজ্যে বর্তমানে তিন ধরনের রেশন কার্ড রয়েছে৷ এপিএল, প্রায়োরিটি গ্রুপ এবং অন্ত্যাদয় এই তিন ধরনের রেশন কার্ডের বিস্তারিত তথ্যও এদিন তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, আগে এপিএল রেশন কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৮৩টি৷ তাতে লোকসংখ্যা ছিল ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৬৭ জন৷ কিন্তু, ইপিডিএস সিস্টেম চালু হওয়ার পর বর্তমানে রেশন কার্ডের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৭৭টি৷ তাতে, এখন লোকসংখ্যাও কমে হয়েছে ১২ লক্ষ ২২ হাজার ৩৮৯ জন৷ শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, শুধু এপিএল রেশন কার্ড ভূয়ো পাওয়া গেছে ৪১ হাজার ৭০৬ টি৷ তাতে লোকসংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৭৮ জন৷ তাঁর কথায়, এপিএল রেশন কার্ডের নিয়মানুযায়ী কার্ড পিছু প্রতি সদস্য ৫ কেজি করে চাল পাবেন৷ সেক্ষেত্রে ন্যুনতম ১৫ কেজি এবং সর্বোচ্চ ২০ কেজি চাল পাবেন এপিএল কার্ডধারীরা৷
শিক্ষামন্ত্রী এদিন জানান, প্রায়োরিটি গ্রুপ রেশন কার্ডের সংখ্যা আগে ছিল ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৮৯টি৷ তাতে লোকসংখ্যা ছিল ১৯ লক্ষ ৯৬ হাহজার ৭৪৪৷ কিন্তু, এখন প্রায়োরিটি গ্রুপ রেশন কার্ডের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ৮৫৷ সাথে লোকসংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩২৭৷ ফলে, ভূয়ো রেশন কার্ড শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৪টি এবং তাতে লোকসংখ্যা ৪৪ হাজার ৪০৭ জন কমেছে৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, নিয়মানুযায়ী প্রায়োরিটি গ্রুপ রেশন কার্ডে প্রতি সদস্য ৫ কেজি করে চাল পাবেন৷ ফলে, ৫ কেজি করে ৪৪ হাজার ৪০৭ জনের জন্য বরাদ্দ ২ লক্ষ ২২ হাজার ৩৫ কেজি চাল প্রতি মাসে কোথায় খরচ হয়েছে, প্রশ্ণ তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷
এদিকে, অন্ত্যোদয় রেশন কার্ডেও একইভাবে ভূয়ো কার্ডধারী চিহ্ণিত হয়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, অন্ত্যোদয় রেশন কার্ডের সংখ্যা আগে ছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪৭৪ তাতে লোকসংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৩ হাজার ৬৬ জন৷ কিন্তু, এখন রেশন কার্ড কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৮৪৪টি৷ স্বাভাবিকভাবেই লোকসংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৭৫৷ শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, রেশন কার্ড ডিজিট্যালের ফলে অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড থেকে ১৮ হাজার ২৯১ জন ভূয়ো নাম বাদ পড়েছে৷ প্রতি অন্ত্যোদয় কার্ডে ৩৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়৷ শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, এতদিন তিন ধরনের রেশন কার্ডে ১৪ লক্ষ ৩ হাজার ৮০ কেজি চাল প্রতি মাসে কোথায় হাফিজ হতো তা এখনো জানা যায়নি৷