
তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিদিন পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটানোয় প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা আগেই রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব। প্রতিবাদ হবে। আন্দোলন হবে। কিন্তু আমরা বন্ধ-ধর্মঘটে নেই। বনধ করে গত ৩৪ বছরে রাজ্যের সর্বনাশ হয়েছে। আর বন্ধ করতে চাই না। সরকারি অফিসে যেসব কর্মী আজ আসবেন না, তাঁদের এ দিন অনুপস্থিত বলে ঘোষণা করা হবে। এ কথা জানিয়ে সরকারের তরফে অতিরিক্ত ৪০০ সরকারি বাস চালানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বেলা তিনটে নাগাদ মৌলালি মোড় থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল হবে। সবাইকে বেলা ২টোর মধ্যে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। মিছিল শেষ যাবে ধর্মতলার ডোরিনা পর্যন্ত। পরে সেখানে পথসভা হবে। মিছিল রাস্তার এক ধার দিয়ে হবে। যাতে পথচলতি মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা না হয়। গাড়ি চলাচলেও যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
হরতালের সমর্থনে আজ মিছিল করবে বামেরাও। সকাল সাড়ে দশটায় কলকাতায় এন্টালি মার্কেটের সামনে থেকে মিছিল বের হওয়ার কথা। সেটি মল্লিকবাজার পর্যন্ত যাবে। মিছিলে বাম ও সহযোগী দলগুলির রাজ্য নেতৃবৃন্দ থাকবেন। এ ছাড়া কলকাতার সকালে নানা ডায়গায় বামেদের মিছিল হবে। সকাল ১০টায় হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়ে লেক মার্কেট পর্যন্ত একটি মিছিল হবে।
তৃণমূল মহাসচিব পার্থবাবু কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, আর এক মুহূর্ত এই সরকারের থাকা উচিত নয়। এই সরকারের জন্য জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। একদিকে পেট্রল-ডিজেল-রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে, ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যাচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সবকিছুই এখন ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৯ সালে মানুষ এর জবাব দেবে। জেলায় জেলায় প্রতিবাদ হবে। তবে বন্ধ-ধর্মঘটে আমরা নেই। বনধের নামে আমরা কর্মনাশা দিন পালন করব না। সিপিএম অনেক বন্ধ ডেকে রাজ্যের সর্বনাশ করেছে। দু’ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বামেরা। এখন আর বামফ্রন্ট নেই। দু’জনের ফ্রন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূর্য-সুজনের ফ্রন্ট। মানুষ এদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছে। মিউজিয়াম হয়ে গিয়েছে। আর একজন গামছা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যা পারছেন বলে বেড়াচ্ছেন।
পেট্রপণ্য জিএসটি’র আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, সে প্রসঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, উনি হাফ মন্ত্রী। উনি সব জানেন নাকি? ওঁকে কেউ পাত্তা দেয় না। দেশের যা অবস্থা হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের বাঁচা মুশকিল হয়ে যাবে। সর্বস্তরে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। তবে বন্ধ করে নয়।
এদিকে, পার্থবাবুর বক্তব্যকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূলের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে ঝোলেও আছে, অম্বলেও আছে। আসলে তাঁরা যে পরোক্ষে নরেন্দ্র মোদিকে আড়াল করতে চাইছেন, তা পরিষ্কার। না হলে পেট্রপণ্যের দাম আজও বেড়েছে। এই ইস্যুতে বিরোধিতা করতে পারছে না, তাই মিছিল ডেকেছে। আবার বন্ধ ব্যর্থ করার জন্য প্রশাসনকে নামিয়েছে।