নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্ট অ্যাক্ট সংশোধন করতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ কারণ, বর্তমান আইনে ফাঁক থাকার কারণে রাজ্যে বহু নার্সিংহোম, প্যাথলজিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না৷ তাই, আইনের সংশোধন খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে৷ স্বাস্থ্য দপ্তরের ছয় মাসের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন৷ পাশাপাশি রাজ্যের পরীক্ষাগাড় গুলিকে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগাড়ে উন্নিত করার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি জানিয়েছেন৷
রাজ্যের বিভিন্ন নার্সিংহোম এবং প্যাথলজিগুলির বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ স্বাস্থ্য দপ্তরে জমা পড়ছে প্রায় প্রতিনিয়ত৷ কিন্তু, আইনের গ্যাঁড়াকলে তাদের বিরদ্ধে কঠোর কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কথায়, ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ি নার্সিংহোম কিংবা প্যাথলজিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গেলে আইনে ফাঁক থাকার কারণে তারা সহজে নিজেদের বাঁচিয়ে নেবে৷ তাই এই আইনে সংশোধন খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে৷ ইতিমধ্যেই আইন সংশোধনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে৷ তাতে নার্সিংহোম কিংবা প্যাথলজির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, নার্সিংহোম কিংবা প্যাথলজি চালাতে গেলে ভারত সরকারের প্রস্তাবিত নির্দেশিকা পালন করতে হবে৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দাবি, খুব শীঘ্রই সংশোধনীটি আইনে রূপান্তর করা হবে৷
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজ্যে বিজেপি আইপিএফটি সরকার গঠিত হওয়ার পর গত ৬ মাসে স্বাস্থ্য দপ্তরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য গুলি তুলে ধরেন৷ তাঁর কথায়, রাজ্য সরকারের ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য দপ্তর বর্তমানে ক্রয় করছে এমন ৪০ শতাংশ ওষুধ রাজ্যে পরীক্ষা করতে সক্ষম৷ কারণ, পরিকাঠামোর অভাবে ৬০ শতাংশ ওষুধই পরীক্ষার জন্য গুয়াহাটিতে পাঠাতে হচ্ছে৷ ফলে, সময় মতো ওষুধ গুলি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গুলিতে সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যাধিক বিলম্ব হচ্ছে৷ তাই, রাজ্যের বর্তমান পরীক্ষাগারগুলিকে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগারে উন্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দাবি, তাতে ১০০ শতাংশ ওষুধ রাজ্যেই পরীক্ষা করা যাবে৷
এদিন তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, জিবিপি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা চালু করার জন্য প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরি করার পর বিভিন্ন শাখায় যেমন নিওরোসার্র্জরি, নিওরো অ্যানেস্থেসিয়া, নেফরোলজি, কার্ডিওলজি এবং কার্ডিও থোরাসিক ভাসকুলার সার্জারি শাখা এবং ইন্টারভেনশাল রেডিওলজি ইউনিটে চুক্তিভিক্তিক সুপার স্পেশালিস্ট নিয়োগ করা হবে৷ তাছাড়াও জিবিপি হাসপাতালে একটি ক্লিনিক্যাল ফরেনসিক মেডিসিন ইউনিট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এজি এমসি এন্ড জিবিপি হাসপাাজ্রতলের প্রিন্সিপাল এবং মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্টকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ শ্রী রায় বর্মণ জানান, রাজ্যে একটি স্বাস্থও ভবন প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ যেখানে এখই ছাদের তলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের চারটি ডাইরেক্টরেট অবস্থান করবে৷ ক্যান্সার হাসতাপালের উন্নত পরিষেবার জন্য তিনটি ব্লক গঠনের কাজ মহকুমা হাসপাতালে এমসিএইচ ব্লক গঠনের জন্য প্রস্তুতি চলছে৷ উত্তর ত্রিপুরা জেলা হাসপাতাল ধর্মনগর, ধলাই জেলা হাসপাতাল কুলাই, গোমতি জেলা হাসপাতাল, তেপানিয়া এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা হাসপাতাল শান্তিরবাজারে ট্রমা কেয়ার পরিষেবা প্রদান করার প্রস্তুতি চলছে৷ করবুক, জিরানীয়া, কুমারঘাট, পানিসাগর, টাকারজলা এবং মোহনপুর গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রকেও মহকুমা হাসপাতালে উন্নিতকরণের জন্য প্রস্তুতি চলছে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরেরর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দিকগুলির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সময়ে অন্তর্বিভাগে চিকিৎসাধীন সমস্ত রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা সুনিশ্চিত করা হয়েছে৷ জিবিপি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সমস্ত রোগীদের ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হচ্ছে৷ আইজিএম হাসপাতালেও এই ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু হবে৷ ত্রিপুরা হেলথ এসুরেন্স স্কিম ফর পুওর এ ৪৫২জন রোগী উপকৃত হয়েছেন৷ আইজিএম হাসপাতালে ইকো কার্ডিওগ্রাফ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে৷ আয়ুষ্মান ভারত, ই-হাসপাতাল, মিশন ইন্দ্রধনুষ, গ্রাম স্বরাজ অভিযান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ডায়ালাইসিস প্রোগ্রাম, রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রমে উল্লেখযোগ সাফল্যগুলি তিনি তুলে ধরেন৷