নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর৷৷ কেন্দ্রের বর্তমান সরকার দেশের মধ্যে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকট তৈরী করেছে৷ সেই সাথে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলিও পূরণ করছে না নরেন্দ্র মোদির সরকার৷ তাতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে৷ জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে৷ এই অভিযোগ করেছেন সাংসদ তথা এআইসিসি নেতা থুকছুম মেনিয়া৷ রবিবার আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদ্গার করেছেন৷ তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে৷ জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ অংশের মানুষের জীবনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে এআইসিসি নেতা অভিযোগ করেছেন বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার ১১ লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছে পেট্রোল এবং ডিজেলের উপর করের মাধ্যমে৷ অন্যান্য দেশে আরও কম দামে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে৷
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ এখন একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে৷ বেশীরভাগ বিরোধীদলগুলি আগামীকালের ভারত বন্ধ-কে সমর্থন জানাচ্ছে৷ ত্রিপুরা সহ দেশের সব রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধ পালিত হবে বলে থুখছুম মনে করেন৷ ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার থাকার সময় পেট্রোলিয়াম পণ্যের সাথে বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্যের তুলনামূল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি জানান, মোদি সরকারের ৫২ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৪০৯ ডলার কমেছে৷ অনুরূপ ভাবে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে এই সরকার৷ তাতে দেশবাসীর উপর চাপ বেড়েছে৷ কংগ্রেস সবসময় দাবী করে আসছে পেট্রোল এবং ডিজেলকে জিএসটির অধীনে নিয়ে আসার জন্য৷ এবং দ্রুত বিক্রয় কর ও সেন্ট্রাল এক্সাইস ডিউটি পেট্রোল ডিজেলে কমানোর জন্য৷ পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, কৃষক, পরিবহণ ক্ষেত্র, ক্ষুদ্র ও মঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা৷ তিনি বলেন, আগামীকাল ভারত বন্ধ কর্মসূচীতে রাজ্যেও কংগ্রেস ও অঙ্গসংগঠনগুলি পিকেটিং করবে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের আসাম প্রদেশ কমিটির মুখ্য সচেতক এফ ওয়াজেদ চৌধুরী, আসাম বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুল রোয়াস প্রমুখ৷