হোজাই (অসম), ২ সেপ্টেম্বর, (হি.স.) : এনআরসি, বাংলাদেশি মুসলমান সম্পর্কে অহর্নিশ বিতৰ্কিত মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনাম দখলকারী হোজাইয়ের বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব আজ ফের এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আজ রবিবার এখানে আবারও এ সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন, ১,২০০ কোটি টাকা খরচ করে এনআরসি-র মাধ্যমে বাংলাদেশি মুললমানদের হাতে ভারতীয় প্রমাণপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে তাদের ভারতীয় বলে সিলমোহর মারা হয়েছে। তা সম্ভব হয়েছে এনআরসি নবায়নের কাজে বাংলাদেশি মূলের মুসলমান কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে।
বিধায়ক শিলাদিত্যের স্পষ্ট বক্তব্য, এনআরসি নবায়ন করে অসমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এনআরসি-র নামে সরকারের ১,২০০ কোটি টাকা জলে গেছে। কেবল তা-ই নয়, এই প্রক্রিয়ার বলে রাজ্যের সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজকর্মও স্থবির হয়ে পড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বিধায়ক বলেন, এনআরসি বৃহত্তর অসমিয়া জাতির সুরক্ষা নয়, বরং এই জাতিকে অসুরক্ষিত নিরাপত্তাহীন করেছে। কেননা, এনআরসি বাস্তবায়নে সংঘটিত হয়েছে বহু দুৰ্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং কম্প্রোমাইজের ঘটনা। লিগেসি ডাটা (বংশবৃক্ষ)-র কেনাবেচা হয়েছে দেদার। এমন ঘটনায় বহু মানুষ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাঁদের নাম অন্তৰ্ভুক্ত করেছেন এনআরসি-র খসড়ায়। এনআরসিকে সঠিকভাবে রেক্টিফাই বা সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে বিজেপি-র খুব ক্ষতি হবে বলে গুরুত্বপূৰ্ণ মন্তব্য করেছেন বিধায়ক শিলাদিত্য দেব।
এদিকে এনআরসি-র নবায়িত খসড়ায় নাম অন্তৰ্ভুক্ত হয়েছে এমন ১০ শতাংশ নাগরিকের নথিপত্র পুনঃপর্যবেক্ষণ করতে সুপ্রিমকোর্টের নিৰ্দেশকে তিনি সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তবে তা কেবল অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যাঁদের নাম এনআরসি-র খসড়া থেকে বাদ পড়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া দরকার বলে মনে করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, বহু মানুষের উপযুক্ত নথিপত্র থাকার পরও জবরদস্তি তাঁদের নাম অন্তৰ্ভুক্ত করা হয়নি। নথি পুনঃপর্যবেক্ষণের জন্য অন্য রাজ্যের অবসরপ্ৰাপ্ত বিচারবিভাগীয় বিচারপতি, সাংবাদিক, সমাজসেবকদের নিয়ে নিরপেক্ষ মনিটরিং কমিটি গঠন করারও দাবি তুলেছেন বিধায়ক দেব।
ধুবড়ি, বরপেটা, কাছাড়, করিমগঞ্জ, গোয়ালপাড়ায় বহু মুসলিম বাংলাদেশির নাম এনআরসির খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে এ কাজে নিয়োজিত মুসলিম অফিসাররা সহায়তা করেছেন বলেও এক গুরতর অভিযোগ তুলেছেন হোজাইয়ের বিধায়ক শিলাদিত্য।