নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট৷৷ ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন এবং পেট্রোল ও ডিজেল যখন সবচেয়ে দামী হল, তখনই জিডিপির হার ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি মোদি সরকারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে৷ দুই বছর বাদে প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপির হার বেড়েছে ৮২ শতাংশ৷ এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের জুলাই সেপ্ঢেম্বরে জিডিপি সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছিল ৮৪ শতাংশ৷ টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন এবং পেট্রোল ডিজেল সর্বোচ্চ মহার্ঘ হওয়ায় চাপের মুখে পড়লেও, কেন্দ্রীয় সরকার জিডিপির সর্বোচ্চ হার বৃদ্ধি প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে কৃতিত্ব কুড়িয়েছে৷
সাময়িক মন্দা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতের অর্থনীতি৷ চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক জাতীয় বৃদ্ধিএর হার পৌছে গিয়েছে ৮২ শতাংশে৷ যা গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ছিল মাত্র ৫৫ শতাংশ৷ শুক্রবার সরকারি তথ্যপ্রকাশ থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে৷ বৃদ্ধির এই হার ভারতের বৃদ্ধি দ্রুততম অর্থনীতি এবং এই ত্রৈমাসিক চিনের থেকে বেশি সম্প্রসাচরণ হয়েছে৷ দেশেড অর্থনীতির হাল নিয়ে স্বস্তিতে নরেন্দ্র মোদি সরকার৷ সাময়িক মন্দা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতের অর্থনীতি৷ উৎপাদন ক্ষেত্রে ১৫টি ত্রৈমাসিক পর চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি উঠল ৮২ শতাংশে৷ শুক্রবার সরকারি তথ্যপ্রকাশ থেকে জানা গেছে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক জাতীয় বৃদ্ধিএর হার পৌছেছে ৮২ শতাংশে৷ যা গত দুবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ৷ আর এর দৌলতে বিশ্বের দ্রুততম উন্নয়নশীল দেশের তকমা ভারত ধরে রাখল৷ অন্যদিকে, উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড এর হারও৷ পৌছেচে ৮ শতাংশে৷ গত অর্থবর্ষের প্রতম ত্রৈমাসিকের চেয়ে যা অন্তত আড়াই শতাংশ বেশি৷ এদিকে, ফের উধর্বমুখী পেট্রোল-ডিজেলের দাম৷ গতকালের তুলনায় দাম অনেকটাই বাড়ল৷ চলতি বছরে সর্বোচ্চ হল পেট্রোল, ডিজেলের দাম৷ কলকাতায় পেট্রোলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৮১ টাকা ৪৪ পয়সা৷ এদিকে, এদিন কিছুটা হলেও কমেছে ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য৷ বর্তমানে ডলারের মূল্য ভারতীয় টাকায় ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা৷
বৃহস্পতিবারও বেড়েছিল তেলের দাম৷ শুক্রবার ফের তেলের দাম বাড়াল রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলি৷ অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও একসাইজ ডিউটি বাড়ার কারণেই তেলের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলি৷ গত ২৯ মে তেলের দাম রেকর্ড বেড়েছিল৷ এবার তাকেও ছাপিয়ে গেল নতুন দাম৷ ফলে, ইতিমধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ শুধু কলকাতা নয়, রাজধানী দিল্লি এবং মুম্বাইয়েও দাম বেড়েছে পেট্রোপণ্যের৷ দিল্লিতে পেট্রোল, ডিজেলের দাম যথাক্রমে ২২ পয়সা প্রতি লিটার এবং ২৮ পয়সা প্রতি লিটার বেড়েছে৷ অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে বেড়েছে যথাক্রমে ২১ পয়সা প্রতি লিটার এবং ৩০ পয়সা প্রতি লিটার৷ এই মুহুর্তে দিল্লিতে এক লিটার প্ঢেরালের দাম ৭৮ টাকা ৫২ বপয়সা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৭০ টাকা ২১ পয়সা৷ অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে প্রতি লিটারে পেট্রোলের দাম ৮৫ টাকা ৯৩ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৭৪ টাকা ৫৪ পয়সা৷ এদিকে ফের দাম কমলো টাকার৷ শুক্রবার ২২ পয়সা নেমে ডলার পিছু টাকার দাম দাঁড়াল ৭০৯৬ টাকা৷ টাকার দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷
বৃহস্পতিবারের পর ফের কমলো টাকার দাম৷ গতকাল টাকার দাম কমেছিল ২৩ পয়সা৷ বৃহস্পতিবার ডলারের দাম ছিল ৭০৭৪ টাকা শুক্রবার টাকার দাম কমলো ২২ পয়সা৷ ফের ডলার পিছু টাকার দাম কমায় দাঁড়াল ৭০৯৬ টাকা৷ ফের ডলারের দাম বাড়ায় আরও বেশি টাকা খরচ করে তেল আমদানি করতে হচ্ছে ভারতকে ৷ যার ফলে মুদ্রস্ফীতিও বেড়ে চলেছে৷ এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের আর্থিক বিষয়ক সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ জানিয়েছিলেন, ‘‘তুরস্কের আর্থিক দুরাবস্থার কারণে টাকায় প্রভাব পড়েছে৷ এটা সাময়িক বিষয়৷ দ্রুত সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠবে৷ টাকার দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷
এই আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট অভ্যন্তরীন উৎপাদন ৩৩৭৪ ট্রিলিয়ন যেখানে ২০১৭-১৮ সালের এই ত্রৈমাসিক ছিল ৩১১৮ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সরকারি বিবৃতি অনুসারে এই ত্রৈমাসিকে মোট মূল্যযুক্ত হয়েছে ৩১৬৩ ট্রিলিয়ন যেখানে ২০১৭-১৮ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ছিল ২৯২৯ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ গত বছরের এই সময়ের সাপেক্ষে বৃদ্ধি ৮ শতাংশ৷
এর আগে এর থেকে বেশি জিডিপি সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৪-১৫ সালের জুলাই – সেপ্ঢেম্বরে ৮৪ শতাংশে৷ কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিসের তরফে এক বিবৃতিতে শুক্রবার এ কথা জানানো হয়েছে৷ ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হয়েচে উৎপাদন ও নির্মান শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জল সরবরাহ ও প্রতিরক্ষা সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে৷ ওই সবকটি ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি৷ বৃদ্ধির হার অনেকটাই তেজি কৃষি, মৎস্যচাষ ও বনসৃজনে৷ খনি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, হোটেল, পরিবহন, যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য বলে জানানো হয়েছে৷
গত অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭৭ শতাংশ৷ তার আগের ত্রৈমাসিক সেই বৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ৷ তার আগের ত্রৈমাসিক ও বেড়েছিল দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার৷ এই পরিসংখ্যান থেটে এটা স্পষ্ট, গত কয়েকটি ত্রৈমাসিকে দেসের জিডিপি বৃদ্ধির হার উত্তরোত্তর বেড়েছে৷ তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এবার হিসেব কষে জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবর্ষে প্রথম ত্রৈমাসিক জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭৫ থেকে ৭৬ শতাংশের মধ্যেই থাকবে৷ তাদের বক্তব্য ছিল, দেশের ২০১৬ সাল থেকে জিডিপি বৃদ্ধির হার যতটা বাড়া উচিত ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোটবন্দি অভিযানের জন্য তা ততটা বাড়তে পারেনি৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিসের তরফে দেওয়া এ দিনের বিবৃতি জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের যাবতীয় প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেল৷
বিশেজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এটা সম্ভব হয়েছে উৎপাদন, নির্মান শিল্প, বিদ্যুৎ গ্যাসে জিডিপি গ্যাসে জিডিপি বৃদ্ধির হার চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭ শতাংশ ছাপিয়ে যাওয়ায় দেশের জিডিপি বৃদ্ধির এই হার আরও নজর কেড়েছে এই কারণে যে, বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চিনে জুন ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার হয়েছে ৬৭ শতাংশ৷ আগেই ত্রৈমাসিকের চেয়ে তা কমেছে৷ চিনে মার্চ ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬৮ শতাংশ৷
বিশ্ব ব্যাঙ্কের দেওয়া পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত বছরেই অর্থনৈতিক শক্তিতে ফ্রান্সকে টপকে গিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির প্রথম ৬টি দেশের তাালিকায় ঢুকে পড়েছে ভারত৷ সামনে ব্রিটেন থাকলেও অর্থনৈতিক শক্তিতে ব্রিটেনের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই ভারত৷