পশ্চিমবঙ্গের এটিএম প্রতারণা কান্ড সংসদে, প্রতারিতদের টাকা ফেরাতে শুরু করল কানাড়া ব্যাঙ্ক

কলকাতা, ৭ আগস্ট (হি.স.): মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের এটিএম প্রতারণা কান্ড নিয়ে সংসদের উভয়কক্ষে সরব হল বিরোধীরা | এদিকে, এদিনই ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কান্ডে প্রতারিতদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল কানাড়া ব্যাঙ্কের গড়িয়াহাট শাখা । মঙ্গলবার সারাদিন চলে টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ । কানাড়া ব্যাঙ্কের উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি গ্রাহকরা ।

মঙ্গলবার এটিএম প্রতারণা কান্ড নিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিষয়টি তোলেন তৃণমূল সাংসদ মানস ভূইঁয়া | অন্যদিকে লোকসভায় বিষয়টি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের আধীররঞ্জন চৌধুরি । লোকসভায় তৃণমূল ও কংগ্রেস সাংসদরা এ নিয়ে সরব হন। দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করেন দুই দলের সাংসদরা। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রস সভাপতি অধীর চৌধুরি মঙ্গলবার লোকসভার জিরো আওয়ারে এই প্রস্তাবটি উপস্হাপন করেন । এটিএম জালিয়াতির তদন্তে গ্রেফতার হয় রোমানিয়ার দুই নাগরিক । সেই প্রসঙ্গ তুলে উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিদেশিরা এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছেন । এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যবস্থা নিতেই হবে । ব্যাঙ্কে রাখা আমানত যদি সুরক্ষিত না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষ টাকা রাখবে কোথায়’ ? একই সুরে অধীর বলেন, ‘যে সমস্ত এটিএম কাউন্টারে রক্ষী নেই সেখান থেকে বেশি পরিমাণে টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে ব্যাঙ্ক টাকা নেয় তাই কোনওভাবেই দায় অস্বীকার করতে পারে না।‘ দুই নেতাই দাবি করেন কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্ককে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিক যাতে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় বেহাত না হয়ে যায়’।

অন্যদিকে, আজ রাজ্যসভায় বিষয়টি তোলেন তৃণমূল সাংসদ মানস ভূইঁয়া | বিষয়টি জানা নেই বলে রাজ্যসভায় জানান রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল | তিনি এবিষয়ে যথাযথ তথ্য পেলে বিষয়টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন রলেমন্ত্রী |

অন্যদিকে, গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আলাদা একটি সেল তৈরি করেছে কানাড়া ব্যাঙ্ক । সেখানে কাজ করছেন ৫ থেকে ৭ জন কর্মী । মঙ্গলবার কানাড়া ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক জানান, ‘যত টাকাই গায়েব হয়ে যাক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত গ্রাহককে সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে’ । ব্যাঙ্কের এক সিনিয়র ম্যানেজার জানিয়েছেন, ‘এটিএম জালিয়াতদের খপ্পরে পড়েছেন কমপক্ষে ৪৪ জন গ্রাহক । উধাও হয়ে গিয়েছে ১২ লক্ষ টাকা । নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে সকলের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। জোরকদমে তদন্ত তো চলছে’ । কানাড়া ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য আগেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল ।

দিন কয়েক আগে এটিএম কার্ড ক্লোন করে কানাড়া ব্যাঙ্কের গড়িয়াহাট শাখার গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নেয় জালিয়াতরা । এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যে । এরপর এই জালিয়াতির ঘটনায় এক এক করে উঠে আসে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ,অন্ধ্র ব্যাঙ্ক ও অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের নাম । হ্যাকাররা মূলত স্কিমার লাগিয়ে চুরি করেছে গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের তথ্য । তারপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে নকল এটিএম কার্ড । এটিএমে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা গেছে, গোলপার্কের কাছে প্রথম এটিএমটিতে ৪ এপ্রিল স্কিমার বসানো হয় । এরপর ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪ বার ওই এটিএমে হানা দেয় হ্যাকাররা । কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের গোয়েন্দারা মনে করছেন ব্যাঙ্ক জালিয়াতি চক্রে কমপক্ষে ৬০০ গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন । এটিএম প্রতারণা চক্রের জেরে সোমবার ব্লক করা হল ৩০০ এটিএম কার্ড ৷ মূলত কানাড়া ব্যাঙ্কেরই ৩০০ এটিএম কার্ড ব্লক করা হয় ৷ এদের অ্যাকাউন্ট স্কিমিং হতে পারে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের । অভিযুক্তদের ধরতে লুক আউট নোটিশ জারি করেছেন তদন্তকারীরা । ইতিমধ্যে দিল্লিতে ধরা পড়েছে দু’জন রোমানিয়ান যুবক ।